শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
দেড় মাসেও ডুমুরিয়ার দু’টি গণধর্ষন মামলার আর কোন আসামী গ্রেফতার নেই: মিমাংসার চেষ্টা!
দেড় মাসেও ডুমুরিয়ার দু’টি গণধর্ষন মামলার আর কোন আসামী গ্রেফতার নেই: মিমাংসার চেষ্টা!

দেড় মাসেও ডুমুরিয়ার দু’টি গণধর্ষন মামলার আর কোন আসামী গ্রেফতার নেই: মিমাংসার চেষ্টা!

মোঃ ইমরান শেখ চুকনগর (খুলনা):

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় পৃথক দু’টি গণধর্ষণের ঘটনার মামলায় পুলিশ গত দেড় মাসেও আর কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

আরাজি ডুমুরিয়ায় জুট মিল শ্রমিক ধর্ষনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিয়ে ধর্ষণের সাথে জড়িতদের নাম প্রকাশ করলেও তারা গ্রেফতার হয়নি। অপরদিকে বরূনা গ্রামে ফুলতলা উপজেলার ডাউকোনা এলাকার এক গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় এক আসামী গ্রেফতার হলেও আসামী ইউপি মেম্বরসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে।

জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আরাজি ডুমুরিয়া গ্রামে গত ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে জনৈক হোসেন আলী ওরফে হুসাইনের সাথে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে ধরে দেখা করতে আসে জুট মিল শ্রমিক এক নারী। বিষয়টি এলাকায় জানা জানি হলে প্রেমিক হুসাইন নিজেকে রক্ষার জন্য ওই জুটমিল শ্রমিক নারীকে ৪ ধর্ষকের হাতে তুলে দিয়ে লাপাত্তা হয়। পুলিশ রেজাউল মোড়ল ও আ: রব মোড়ল নামে দুই ধর্ষককে গ্রেফতার করে। তারা ধর্ষণের সাথে যুক্ত অন্যদের নাম প্রকাশসহ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জুট মিল শ্রমিক গণধর্ষণের মামলার পলাতক দুই ধর্ষক হচ্ছে সবুজ মোড়ল ও সোহাগ মোড়ল।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডুমুরিয়া থানার পরিদর্শক ( তদন্ত) মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, জুট মিল শ্রমিক গণধর্ষনের মামলার তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে কোন সময়ে আদালতে চার্জশীট দেয়া হবে।

অপরদিকে জেলার ফুলতলা উপজেলার ডাউকোনা গ্রামের জনৈক গৃহবধূ গত ৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে দেবরের সাথে বাবার বাড়ি ডুমুরিয়ার রূদাঘরা গ্রামে আসছিল।

পথিমধ্যে বরূনা গ্রামে এক পরিচিতের বাড়িতে গেলে সেখান থেকে ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক নুর ইসলাম শেখ, স্বঘোষিত যুবলীগ নেতা মাহবুর রহমান মোল্লা, উজ্জ্বল শেখ ও মুশফিকুর রহমান গৃহবধুর দেবর বাচ্চুকে বেঁধে রেখে তাকে পাশ্ববর্তি বিলে নিয়ে গণধর্ষন করে এবং টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মাহবুর রহমান মোল্লাকে গ্রেফতার করে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করে। পরে পুলিশ ধৃত আসামীর রিমান্ড চাইলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার অন্য আসামীরা এখনও পলাতক রয়েছে।

এ দিকে ইউপি মেম্বর নুর ইসলাম শেখ ধর্ষন মামলার আসামী হয়ে পলাতক থাকার পরও গত দেড়মাসেও ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: রেজোয়ান হোসেন মোল্লা ইউএনও বরাবর কোন তথ্য প্রদান করেননি। এমনকি ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: শাহানাজ বেগম গত রোববার চেয়ারম্যানকে লিখিত দিতে বললেও তিনি দেননি। অপর দিকে ধর্ষন মামলার আসামী হওয়ায় ধামালিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে নুর ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্হা গ্রহনের জন্যে উপজেলা বিএনপি’র কাছে দাবী জানালেও নেতৃবৃন্দ এখনও পর্যন্ত কোন ব্যবস্হা নেয়নি বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: রেজোয়ান হোসেন মোল্লা বলেন, এ ঘটনা তো মিমাংসা হয়ে যাবে তাই নুর ইসলামকে বহিস্কারের জন্য উপজেলা নির্বাহি অফিসারের নিকট লিখিত দেয়নি। তিনি বলেন, নুর ইসলাম আমার বড় ভায়রা ( শ্যালিকার স্বামী)

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *