শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধে ফ্রান্সে আইন পাস
এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত চার মাস সময় দেওয়া হবে।ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মনোযোগ, মানসিক বিকাশ এবং সামাজিক আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে কম বয়সীদের মধ্যে আসক্তি, উদ্বেগ ও একাকিত্বের প্রবণতা বাড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি যৌথভাবে আইনটি অনুমোদন করেছে।নতুন বিধানে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই ১৫ বছরের কম বয়সীরা ভুল তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।ফ্রান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক জুনিয়রমন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ বলেছেন, ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্কতার ধারণা প্রতিষ্ঠায় ফ্রান্স ইউরোপে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। তার ভাষায়, শিশুদের সুরক্ষায় ডিজিটাল জগতে বয়সভিত্তিক সীমারেখা টানা এখন সময়ের দাবি।এর আগে, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালু করেছিল। এবার সেই পথ অনুসরণ করল ফ্রান্স।প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ দীর্ঘদিন ধরেই শিশু-কিশোরদের অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সমালোচনা করে আসছেন। গত এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “অনেক শিশু এমন এক ডিজিটাল পরিবেশে বড় হচ্ছে, যেখানে তাদের মনোযোগ প্রতিনিয়ত কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাদের বই পড়া, শেখা এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবি, বয়সসীমা নির্ধারণ, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো নানা উদ্যোগ আগে থেকেই চালু রয়েছে। তারপরও নতুন আইন কার্যকর হলে তা মেনে চলার আশ্বাস দিয়েছে তারা।এদিকে, শিশু ও কিশোরদের জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছে ইউরোপীয় কমিশন। ফ্রান্সের এই আইন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।