কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি, আলামিন ইসলাম:
খুলনার কয়রা উপজেলায় বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে জান্নাতি নামে ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একই সঙ্গে ছোট্ট শিশুটির এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায়ও শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের বতুল বাজার এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু জান্নাতি ওই এলাকার বাসিন্দা মুকুল সানার মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির আশপাশে খেলছিল শিশু জান্নাতি। খেলার একপর্যায়ে কোনোভাবে সে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি।
কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা জান্নাতিকে দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বাড়ির উঠান, আশপাশের এলাকা ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করার পর একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে শিশুটির সন্ধান মেলে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
শিশুটিকে উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ততক্ষণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে একটি স্বাভাবিক দুপুর পরিণত হয় পরিবারের জন্য গভীর শোকে।
নিহত জান্নাতির স্বজনরা জানান, শিশুটি পরিবারের সবার আদরের ছিল। তার স্বাভাবিক খেলাধুলা ও ছোটাছুটিতে বাড়িতে সবসময় প্রাণচাঞ্চল্য থাকত। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের অজান্তে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনা মুহূর্তেই তাদের সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে।
ঘটনার পর শিশুটির স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন বাড়িতে ছুটে আসেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামাঞ্চলের অনেক বাড়ির কাছেই পুকুর, ডোবা ও জলাশয় রয়েছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই শিশুদের নিরাপত্তায় বাড়ির আশপাশের জলাশয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে জান্নাতির মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়। মাত্র ১৮ মাস বয়সী শিশুটির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।
