মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
কলারোয়ায় এসএসসি শিক্ষার্থীর কোলে ৩ মাসের শিশু
কলারোয়ায় এসএসসি শিক্ষার্থীর কোলে ৩ মাসের শিশু

কলারোয়ায় এসএসসি শিক্ষার্থীর কোলে ৩ মাসের শিশু

মোস্তফা হোসেন বাবলু,স্টাফ রিপোর্টারঃ

সাতক্ষীরা কলারোয়ার সোনাবাড়িয়া সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিন মাসের শিশু কেলে নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এক শিক্ষার্থী৷

সে উপজেলার দমদম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের নিয়মিত ছাত্রী৷ বৈশ্বিক মহামারি করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর পুনর্বিন্যাস করা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় আজ রবিবার (১৪ নভেম্বর) কলারোয়া উপজেলার ৬টি কেন্দ্রে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ৭৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩ হাজার ৯০৭ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশ গ্রহণ করার কথা থাকলেও প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৪৩ জন।এদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি৷
করোনার প্রাদুর্ভাবে গ্রামীণ পর্যায়ে মানুষ পারিবারিক,অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা ও অজ্ঞতার কারণে শিক্ষকদের অগচরে অনেক অভিভাবক স্কুল পড়ুয়া অল্প বয়সী মেয়েদের বাল্য বিয়ে দিয়েছেন৷তারপর অনেকে সংসার করছে,আবার অনেকে সংসারের পাশাপাশি লেখাপড়াও করছে।

দমদম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম আব্দুর রহিম দৈনিক নতুন সর্যকে বলেন, এ বছর ৫৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।দীর্ঘদিন যাবৎ করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক অসচেতন অভিভাবক তাদের স্কুল পড়ুয়া সন্তানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে বিয়ে দিয়েছেন৷ শিক্ষকরা জানতে পারলে বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়ে যাবে এ ভয়ে খুব গোপনে বিয়ে দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, করোনার আগে বাল্যবিবাহ হবে জানা মাত্র প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে।এ বছর অনেক শিক্ষার্থীর গোপনে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে৷তবে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে অভিভাবকদের তুলনামূলক সচেতন হতে হবে।

উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়নের পাঁচপোতা এলাকা থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েকে নিতে আসা অভিভাবক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গ্রামের সাধারণ খেঁটে খাওয়া মানুষ গুলো চিন্তা করে কামলা খেটে যা রোজগার হয় তা দিয়ে কোনরকম সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার স্বপ্নে তাদের লেখাপড়ার জন্য খরচ করা।কিন্তু করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ বাবা-মাকে ভুলভাল বুঝিয়ে স্মার্ট মোবাইলে শুরুটা বন্ধুত্ব দিয়ে হলেও চুরি করে অবৈধ বিয়েতে পৌঁছে যাচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী।কিন্তু সমাজে তার পরিবারের চুনকালি মাখিয়ে ফিরে আসলেও তখন আর কোন পথ থাকে না।

কলারোয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ বলেন,দীর্ঘদিন যাবৎ স্কুল বন্ধ থাকায় অধিকাংশ মেয়েদের গোপনে বিয়ে হয়েছে, যে কারনে সোনাবাড়িয়া সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ মাসের শিশু সন্তান নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এক পরীক্ষার্থী।তবে আমি আগামীতে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সমাবেশ করে,অভিভাবকদের বাল্য বিবাহ সম্পর্কে সচতেন করে তুলব।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।