শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
আজ কলারোয়া হানাদার মুক্ত দিবস
আজ কলারোয়া হানাদার মুক্ত দিবস

আজ কলারোয়া হানাদার মুক্ত দিবস

মোস্তফা হোসেন বাবলু

আজ ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালের এ দিনে সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকা পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়ে মুক্তিকামী মানুষের উল্লাসে মুখরিত হয়। পাকবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞে ক্ষত-বিক্ষত কলারোয়ার আকাশে ওড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা।

ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল এ দিনটি উদযাপনে এবারও গ্রহণ করা হয়েছে বিস্তরিত কর্মসূচি।কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গোলাম মোস্তফা জানান, মুক্তিযুদ্ধে ৮নম্বর সেক্টরের আওতাধীন কলারোয়ায় ৩৪৩ জন বীর সেনানী অংশ নেন। এরমধ্যে শহীদ হন ২৭ জন। এদের মধ্যে সর্বপ্রথম শহীদ হন মাহমুদপুর গ্রামের আফছার সরদার।তারপর এপ্রিলে পাকবাহিনী কলারোয়ার পালপাড়ায় হামলা চালিয়ে গুলি করে হত্যা করে ৯ জনকে। পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধ পরিচালনা করেন কলারোয়ার বীর যোদ্ধা মোসলেম উদ্দ্নি ও আব্দুল গফফার।তিনি জানান, কলারোয়ায় পাকসেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি বড় ধরনের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এর মধ্যে ১৮ সেপ্টেম্বরের বালিয়াডাঙ্গা যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। এ যুদ্ধে ২৯ জন পাকসেনা নিহত হয়। শহীদ হন ১৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

এর আগে ২৭ আগস্ট সমগ্র চন্দনপুর এলাকা পাকবাহিনী মুক্ত হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর কাকডাঙ্গার যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমণের মুখে পাকসেনারা কাকডাঙ্গা ঘাঁটি ছাড়তে বাধ্য হয়। অক্টোবরের শেষদিকে মুক্তিযোদ্ধারা বাগআঁচড়ায় ুঃসাহসিক হামলা চালিয়ে ৭ পাক রেঞ্জারকে হত্যা করেন। খোরাে এলাকাও মুক্ত করে ফেলেন মুক্তিযোদ্ধারা। কলারোয়ার বীর যোদ্ধাদের ধারাবাহিক সফল অপারেশনের মুখে কোনঠাসা হয়ে পড়ে পাক বাহিনী।

কিন্তু পাক বাহিনী যখন বুঝতে পারে পরাজয় নিশ্চিত, তখন তারা ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর চেষ্টা করে। এরই অংশ হিসেবে ৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কলারোয়ার বেত্রবতী নদীর লোহার ব্রিজ মাইন দিয়ে ধ্বংস করে পাকসেনারা পালিয়ে যায়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধারা নৌকাযোগে নদী পার হয়ে এসে কলারোয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে নেন।

সময় তখন ভোর ৫টা ১৫ মিনিট। এভাবে একেকটি সফল অপারেশনের মধ্য দিয়ে অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর কবল থেকে কলারোয়ার মাটিকে মুক্ত করেছিলেন আজকের এ দিনে। কলারোয়া থানায় পাকিস্থানের পতাকা নামিয়ে সবুজের বুকে রক্ত সূর্য খচিত স্বাধীন দেশের পতাকা ওড়ান মুক্তিকামী বীর মুক্তিযোদ্ধারা।এদিকে, কলারোয়া উপজেলা পষিদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এম/এইচ

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।