বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
বাগেরহাটে প্রেমের টানে পালিয়েছে কিশোর স্মরণ কুমার বর্মণ-কিশোরী ইভা আক্তার
বাগেরহাটে প্রেমের টানে পালিয়েছে কিশোর স্মরণ কুমার বর্মণ-কিশোরী ইভা আক্তার

বাগেরহাটে প্রেমের টানে পালিয়েছে কিশোর স্মরণ কুমার বর্মণ-কিশোরী ইভা আক্তার

নতুন সূর্য ডেস্কঃ

বাগেরহাটে প্রেমের টানে বাড়ি থেকে পালিয়েছে দশম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোর স্মরণ কুমার বর্মণ (১৬) এবং একই শ্রেণির কিশোরী ইভা আক্তার (১৬)। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়ের বাবা ও তার লোকজন ছেলের বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও ছেলের বাবাকে মারধর করেছে।

মেয়েকে ফিরে পেতে বাগেরহাট মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মা বিউটি বেগম। পলাতক কিশোর-কিশোরীদের বাড়ি ফিরে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন পরিবার ও স্থানীয়রা। এদিকে পলাতক কিশোর-কিশোরীকে খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক।

পলাতক কিশোর স্মরণ কুমার বর্মণ সদর উপজেলার কুড়শাইল গ্রামের সাধন কুমার বর্মনের ছেলে। কিশোরী ইভা আক্তার পার্শ্ববর্তী আড়পাড়া গ্রামের মাসুদ মোড়লের মেয়ে। তারা দুইজনই আড়পাড়া-কুড়শাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০ শ্রেণিতে পড়াশুনা করে।

পলাতক কিশোরের বাবা সাধন কুমার বর্মন বলেন, ইভা আক্তারের সাথে আমার ছেলের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এই অসম প্রেম থেকে বিরত থাকার জন্য বিভিন্ন সময় আমার ছেলেকে বকাঝকা ও মারধরও করেছি। তাতেও ফেরেনি তারা। এক পর্যায়ে সোমবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে ছেলে মেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এর জেরে মঙ্গলবার সকালে ইভার বাবা মাসুদ মোড়ল ও তার লোকজন আমার বাড়িতে এসে কলাপ্সিবল গেট, আলমারি ও টিভি ভাঙচুর করে। এ সময় বেশকিছু স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে যায় তারা। তাদের ভয়ে আমি প্রতিবেশী প্রদীপ মন্ডলের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ভাঙচুর শেষে তারা ওই বাড়িতে এসে আমাকে মারধর করে, মাসুদ মোড়লের দায়ের কোপে আমার বাম হাতের মধ্য আঙ্গুল কেটে ঝুলে গেছে। আমাকে ঠেকাতে এসে মাসুদের মারধরে অমিত সাহা ও প্রদীপ মন্ডলও আহত হয়েছেন।

সাধন কুমার বর্মন আরও বলেন, ছেলে-মেয়ে পালিয়েছে প্রেমের টানে। এতে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও আমি এবং আমার আত্মীয় স্বজন ছেলে- মেয়েকে খুঁজতেছি। কিন্তু কোনভাবে সন্ধান পাচ্ছি না। আমরা চাই ছেলে-মেয়ে বাড়িতে ফিরে আসুক।

কিশোরের মা কৃষ্ণা রাণী বর্মন বলেন, প্রেমের সম্পর্কের কারণে ছেলে-মেয়ে পালিয়েছে। এতে আমাদের দোষ কি। তারপরও মেয়ের বাবা আমার স্বামীকে মারধর  করেছে, কুপিয়েছে। গোয়ালের গরু ধরে নিয়ে গেছিল তারা, চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে ফেরত দিলেও আমাদেরকে এলাকা ছাড়া করার হুমকী দিচ্ছে তারা। ভয়ে যুবতী দুই মেয়েকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা চাই যে কোন মূল্যে ছেলে-মেয়ে ফিরে আসুক। আমরা শান্তিতে বসবাস করি।

কিশোরের পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে পলাতক কিশোরীর মা বিউটি বেগম বলেন, আমার মেয়ে ইভা আক্তার খুবই সহজ সরল প্রকৃতির। স্মরণ কুমার বর্মন ও আমার মেয়ে একই শ্রেণিতে পড়লেও স্মরণ খুবিই বাজে প্রকৃতির একটি ছেলে। সে নিয়মিত নেশা করে। নানা ভাবে চাপ প্রয়োগ করে আমার মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে নেশাখোর স্মরণ কুমার বর্মন। আমি কখনও আমার মেয়েকে ছাড়া থাকিনি, আপনারা যেকোন মূল্যে আমার মেয়েকে এনে দিন এই বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিউটি বেগম।

বিউটি বেগম আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামী মানসিকভাবে অসুস্থ। মেয়ে পালিয়ে যাওয়ার খবরে সে একটু বেসামাল হয়ে পড়েছে। যার কারণে তাকে একটু অন্য বাড়িতে রাখা হয়েছে। তবে ছেলের বাড়িতে যেয়ে ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনা সঠিক নয়। 

এদিকে হামলা-মামলা ও ভাঙচুর বাদ দিয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর-কিশোরীকে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় আসাদুজ্জামান মোড়ল, হুমায়ুন কবির মোড়ল, সবুজ মোড়লসহ কয়েকজন বলেন, এলাকার সবাই জানে এই ছেলে মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের কারণে ঘর ছেড়েছে। এটা কারও একার দোষ নয়। এক্ষেত্রে উত্তেজিত না হয়ে সবাই মিলেমিশে এদের খুঁজে বের করা প্রয়োজন। জয়ন্তী রাণী বর্মন নামের এক নারী বলেন, ছেলে-মেয়ে তাদের কর্মের ফল ভোগ করবে। কিন্তু বাবা-মায়ের উপর অত্যাচার, বাড়িঘর ভাঙচুর লুটপাট এক ধরণের অসভ্যতা। আমরা এলাকাবাসী এসব চাই না। হানিফ মোড়ল নামের এক বৃদ্ধ বলেন, মেয়েটা অনেক ভাল ছিল কিন্তু কেন এমন করল জানিনা। তবে সবকিছু ভুলে তাদের উচিত ফিরে আসা। তাহলে দুই পরিবারই শান্তিতে থাকতে পারবেন।

কিশোর-কিশোরীর পলায়ন সম্পর্কে বারুইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হায়দার আলী মোড়ল বলেন, মেয়ে পালানোর বিষয় জানতে পেওে তার বাবা কিছুটা উত্তেজিত হয়েছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নিয়ে আমি তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। এখন সবাই শান্ত রয়েছে। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি যাতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক এই শিক্ষার্থীদের সন্ধান পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক বলেন, আমরা কিশোরীর মায়ের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের তদন্ত চলছে। ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ঘর ছাড়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর-কিশোরীকে উদ্ধার করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।