
শেখ মারুফ হোসেনঃ
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা শিশু নিকেতনে বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) কচুয়া উপজেলা শিশু নিকেতন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বেলা ১১ টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণী এ অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তিমির বরণ পাইক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আগত অতিথিবৃন্দের আসন গ্রহণ এরপর পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী কাজী মেহতাব, পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন শিক্ষার্থী অন্দ্রিতা। কচুয়া উপজেলা শিশু নিকেতনের প্রধান শিক্ষক অনিমেষ হালদার স্বাগত বক্তব্যে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্য বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ ১৮ মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে আমরা স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে বিদ্যালয় চালু করেছি। সকল শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে প্রশ্নপত্রের বিন্যাসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র তৈরি করে সুষ্ঠভাবে পরিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করিয়েছি। নিরপেক্ষ ভাবে ফলাফল তৈরি করে সম্মানিত অভিবাবকদেরকে তাদের সোনামণিদের পরিক্ষার খাতা দেখিয়েছি। আজ যেসকল শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সাথে উর্ত্তীন্ন হয়েছে তাদেরকে সহ অন্যান্য সকল শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আরো আন্তরিক ও যত্নশীল হওয়ার আহবান রেখে বিদ্যালয় সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথি বলেন, আজ এ অনুভব আমি শুধু অতিথি নয় পাশাপাশি অভিভাবক। বার্ষিক ফলাফলের ভিত্তিতে অনেকে খুব ভালো ফলাফল করেছে আবার কারো কারো আরও ভালো ফলাফল করার জন্য মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। কোন শিক্ষার্থী যেন মন খারাপ না করে আরো ভাল লেখাপড়া করতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা সামছুন নাহার বলেন, আজ সুন্দর একটি দিনে কচুয়া উপজেলা শিশু নিকেতনে বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলাফলের ভিত্তিতে কেউ ১০০/১০০ কেউ ৩৩/১০০, কেউ ভাল বা মন্দ এ বিবেচনা না করে, শিশু কে মানবিক ভাবে বেড়ে উঠতে উৎসাহিত করতে হবে। মানবিকভাবে বেড়ে উঠলে তার প্রতিভা সে বিকশিত করতে পারবে। প্রত্যেকে অসিম সম্ভাবনাময় তাদেরকে শিক্ষকরা অনুপ্রেরণা দিবেন। ফলাফল খারাপ করলে অনেকে বকাবকি করে যার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের উপর মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় এরফলে সে যেকোন দুর্ঘটনাও ঘটাতে পারে আমরা এমনটি চাই না। তাকে স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করতে হবে।
প্রধান অতিথি কাজী মহিউদ্দিন বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে আগত সাকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য সকল শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেন। তাদের ভালো ফলাফলের পিচনে তাদের বাবা, মা ও শিক্ষকদের অবদানের কথা বলেন। তিনি বলেন আমরা শিক্ষকদের সম্মান করবো, বাচ্চাদের অনুপ্রাণিত করবো যেন আগামী বছর সকল শিক্ষার্থী আরো ভাল করতে পারে, আমরা আরো বেশি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দিতে পারি।

এরপর কৃতি শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।