
এ টি এম মাহফুজ,যবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পরিবহন প্রশাসনের উদাসীনতায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। পরিবহন সংকটের কারণে ধারণ ক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপে স্বাস্থ্যবিধি মানতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। এতে করে প্রতিনিয়তই দাঁড়িয়ে ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গাদাগাদি করে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।এই বিষয়ে একাধিকবার পরিবহন প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও মেলেনি কোনো সমাধান। অন্যদিকে পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত যাতায়াতে ভোগান্তির স্বীকার হয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যবিপ্রবির পরিবহন পুলে রয়েছে ৬টি দ্বিতল ও ৬ টি সিঙ্গেল বাস যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাফদের শহরের বিভিন্ন স্থান হতে ক্যাম্পাসে যাতায়াতের কাজে ব্যবহৃত হয়। এরমধ্যে ৩ টি সিঙ্গেল বাস প্রতিনিয়ত কালীগঞ্জ, খাজুরা ও মনিরামপুর তিনটি আলাদা রুটে যায়। মেরামতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় বিকল অবস্থায় প্রায় ২০/২৫ দিন ধরে পরে আছে একটি সিঙ্গেল বাস । শিক্ষকদের একটি মাইক্রোবাস বিকল হয়ে আছে ৪/৫ দিন ধরে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন কর্মচারী বলেন, এসকল সমস্যা যবিপ্রবির পরিবহন প্রশাসক ড. জাফিরুল ইসলামকে একাধিক বার জানানো হলেও কোনো সুরাহা করেননি তিনি। এছাড়া সমাধান চাইলে টাকা সংকটসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যান ড. জাফিরুল।
তিনি আরো বলেন, বাসগুলোর ইঞ্জিনওয়েল পরিবর্তন করতে হয় ৫০০০ কিলোমিটার, কিন্তু ৭০০০ কিলোমিটার হয়ে যাওয়ার পরেও এখনো ইঞ্জিনওয়েল পরিবর্তন করা হয়নি,নতুন বাসগুলোর পাতিসেট কেনার কথা থাকলেও কেনা হয়নি, কয়েকটি বাসের হুইপারের মোটর নেই।এছাড়াও নানাবিধ অনিয়মে জর্জরিত যবিপ্রবির পরিবহন সেক্টর।
বর্তমানে যবিপ্রবির ৭৫% শিক্ষার্থীই অনাবাসিক এবং শহরের বিভিন্নি মেস বা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে।সকল বিভাগের পরীক্ষা গত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অনেক বিভাগে চলছে পরীক্ষা,ল্যাব্, ভাইবা সহ থিসিসের কাজ। পরিবহন প্রশাসনের দেওয়া শিডিউল অনুযায়ী সকাল ৮ঃ৫০ ঘটিকা ও দুপুর ১২:০০ ঘটিকায় শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের বাবস্থা থাকলেও আজ দুপুর ১২:০০ ঘটিকায় বাস ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে আসেনি। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে ল্যাব্ , ভাইবা সহ থিসিসের কাজে কাম্পাসে আসা অনেক শিক্ষার্থী।
এছাড়াও প্রতিনিয়ত বিকাল ৫ ঘটিকার বাসে রীতিমত দাঁড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।পরিবহন সংকটের কারণে বাসে গাদাগাদি করে উঠার পরও শহরের শত শত শিক্ষার্থীকে লোকাল বাস,মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে,স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষিত । এ নিয়ে শিক্ষার্থী মহলে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও আতঙ্ক।পাশাপাশি করোনা মহামারীর নতুন ভেরিয়েন্ট ওমিক্রন ও পুনরায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত শিক্ষার্থীরা।
এই বিষয়ে এক শিক্ষার্থী বলেন , আমার মনে হয় এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র স্টাফদের জন্য। যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাফদের জন্য মনিরামপুর, খাজুরা, কালিগঞ্জ, চাচড়া, মনিহারে আলাদা আলাদা বাস আছে। যেখানে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা তাদের থেকে বহুগুন সেখানে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুইটা বাস বরাদ্দ থাকে।
পরিবহন সমস্যা নিয়ে আক্তারুল ইসলাম নামের একজন শিক্ষার্থী বলেন , প্রায় প্রতিদিনই ৫ টার বাসে আমাদের দাঁড়িয়ে যেতে হয় । গতদিন জায়গার সংকটে স্টাফদের বাসে কয়েকজনকে যেতে হয়েছে। আমারা একাধিকবার এই নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি তবে পর্যাপ্ত বাস থাকা সত্ত্বেও আমাদেরকে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে ।
আরেক শিক্ষার্থী নাঈমুর বলেন, আমি প্রতিদিন সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে যায়।অনেকে প্রায়ই ঝুলে ঝুলে ক্যাম্পাসে যায় এবং বাসে যা অবস্থা তাতে স্বাস্থ্য বিধি মানার কোনো সুযোগই নেই। এছাড়া ভাড়ায় চালিত লালবাসগুলো প্রচণ্ড অপরিষ্কার, দেখলে মনে হয় এগুলো ছয় মাসেও পরিষ্কার করা হয় না। শিক্ষার্থীর মননশীল চিন্তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ এটি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে প্রধান পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. মোঃ জাফিরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন “আমি ঢাকায় ছুটিতে আছি, এই বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবহন দপ্তরে যোগাযোগ করুন”।
পরবর্তীতে সহকারী পরিবহন প্রশাসক মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলম কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, দুপুর ১২:০০ ঘটিকায় বাস শুধুমাত্র যেদিন বিকালে পরীক্ষা থাকে ওইদিন চলাচল করে । আজ বিকালে কোন বিভাগে পরীক্ষা ছিল সেই জন্য বাস যায়নি। আমাদের শিক্ষকদের যে গাড়িটির সমস্যা ছিল তার প্রয়োজনীয় পার্টসগুলো আমরা সংগ্রহ করেছি, দুই-একদিনের মধ্যে মাইক্রোবাসটি চলাচল উপযোগী হয়ে যাবে। সিঙ্গেল বাসের সমস্যা ও যন্ত্রাংশের বিষয়ে প্রধান পরিবহন প্রশাসক জাফিরুল ইসলাম স্যার ও কর্মকর্তা শাহেদ রেজা ভাল বলতে পারবেন । শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা ইতিমধ্যে মিটিং করেছি । খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা প্রয়োজনীয় বাবস্থা গ্রহন করে সমস্যাগুলো সমাধান করব।