বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
মেরিট লিস্টে থেকেও ভর্তি হতে পারলেন না নীলফামারীর নিপুণ
মেরিট লিস্টে থেকেও ভর্তি হতে পারলেন না নীলফামারীর নিপুণ

মেরিট লিস্টে থেকেও ভর্তি হতে পারলেন না নীলফামারীর নিপুণ

যবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাসময়ে উপস্থিত হতে না পারায় ভর্তি হতে পারলেন না এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নিপুন বিশ্বাস নীলফামারী জেলার সদর উপজেলা লক্ষীচাপ ইউনিয়নের বাসিন্দা।তার পিতা প্রেমানন্দ বিশ্বাস পেশায় একজন নাপিত।গতকাল রবিবার বিকাল ৫ ঘটিকায় যবিপ্রবির স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের শরীরিক শিক্ষা ও ক্রিড়া বিজ্ঞান বিভাগে ২০২০-২১ সেশনে ৩য় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে আজ সোমবার ৩১ জানুয়ারি সকাল ১০:০০টা থেকে ১১:০০ ঘটিকার মধ্যে উপস্থিত হতে না পারায় ভর্তি হতে পারেননি ওই শিক্ষার্থী।

এই বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নিপুন বলেন, গতকাল বিকালে ওয়েবসাইটের নোটিশে ৩য় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে । আমার কোন স্মার্ট ফোন নেই যার কারণে আমি ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখতে পারিনি। কিন্তু আমার মোবাইল নম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কোন কল বা মেসেজ দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা দেওয়া হয়নি। মাঝরাতে আমার একজন বড়ভাই আমাকে ফোন করে ভর্তির বিষয় জানালে আমি তৎক্ষণাৎ আশেপাশের লোকজন ও নিকট আত্মীয়দের থেকে টাকা ধার করে ২৩ হাজার টাকা জোগাড় করি।এরপরে নির্দিষ্ট সময়ে আসার জন্য মাইক্রোবাস ঠিক করি ১৫ হাজার টাকা দিয়ে।কিন্তু যশোর থেকে নীলফামারীর দূরত্ব অনেক হওয়ায় এবং রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে আমার বেলা ১২টা ৮ মিনিট বেজে যায়।এরমধ্যে ১০ টার দিকে আমার বিষয়ে একজন বড় ভাই ডিন স্যারের সাথে এই সমস্যার বিষয়ে কথা বলেন। কিন্তু আমি আসার পরে জানতে পারি মেরিট লিস্টে আমি প্রথমে থাকার পরেও তৃতীয় সিরিয়ালে থাকা শিক্ষার্থীকে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। এরপর আমি অনেক অনুনয় বিনয় করলেও তারা আমাকে ভর্তি নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমি কাজ করে হলেও এই টাকা জোগাড় করতে পারব কিন্তু আমি আমার বাবা মাকে কি জবাব দিব ?? আমার বাসা দূরে হওয়ার জন্য আজ আমি সময় মত আসতে পারি নাই। যদি সময়সীমা বাড়ানো হত তাহলে আমি সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে পারতাম। তাছাড়াও আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোন মেসেজও দেওয়া হয়নি।অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ওয়েটিং লিস্টে থাকায় আমি মেসেজ পেয়েছি কিন্তু এখানকার প্রশাসন কোন মেসেজ দেয়নি। আমাকে যদি আগে থেকে মেসেজ দেওয়া হতো অথবা নোটিশের পরের দিনই সময় না দিয়ে একটা দিন পরে দেওয়া হত তাহলে আমি সঠিক সময়ে এসে ভর্তি হতে পারতাম।

এই বিষয়ে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড.মোঃ তানভীর ইসলাম বলেন, গতকাল রবিবার দুপুরে একজন শিক্ষার্থী ভর্তি বাতিল করায় আমরা ৩য় ভর্তি বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করি। আমাদের মাননীয় উপাচার্য স্যারের নির্দেশনা ছিল ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সকল ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার। এরই প্রেক্ষিতে আমরা ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করি। আজকে আমাদেরে তিনটি বিভাগ সহ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির কাজ ছিল। আমরা সময় বাড়িয়ে বেলা ১২টায় শরীরিক শিক্ষা ও ক্রিড়া বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হতে আসা একজন শিক্ষার্থী থাকায় আমরা তাকেই ভর্তি করি।

তিনি আর বলেন , ছেলেটির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আমরা আর কিছু বলার নেই।নিয়মের মধ্যে থেকেই আমাদের অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্তে যেতে হয়। তাকে আমরা প্যানেল ভুক্ত করে রাখতে পারি পরবর্তীতে যদি কোন সিট ফাঁকা হয় সেক্ষেত্রে আমি উপাচার্য মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করব তাকে ভর্তি নেওয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোন মেসেজ বা কল না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন , এটি টেকনিক্যাল কমিটির দায়িত্ব।

এই বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গালিবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে কথা বলতে রাজি হননি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।