
মোস্তফা হোসেন বাবলু,স্টাফ রিপোর্টারঃ
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ঘূর্ণিঝড় ”অশনির” প্রভাবে সৃষ্টি নিম্নচাপের কারণে গত সোমবার থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত টানা ৩ দিনের ‘বৃষ্টিতে পৌর সদরের অধিকাংশ সড়কগুলি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জরাজীর্ন ও বৃষ্টির পানি জমে খানা-খন্দকে পরিনত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছে শিশু, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ পৌরসদরের বাসিন্দারা।
এদিকে দ্বিতীয় শ্রেণীর এই পৌরবাসীর অভিযোগ, একাধিকবার পৌর মেয়র, সংশ্লিষ্ঠ ওয়ার্ড কমিশনারসহ কতুপক্ষকে সড়কগুলি সংস্কারের বিষয়টি অবহিত করা হলেও এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না। নাগরিক সেবা বঞ্চিত এসব পৌর বাসীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন, প্রতি বছর ঘটা করে আনুষ্ঠানিক বাজেট ঘোষনা করায় যেন পৌরকতৃপক্ষের এক মাত্র কাজ। তাদের দাবি, কলারোয়া পৌর কতৃপক্ষের চরম উদাসীনতায় বর্তমান সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়নকে ম্লান করে দিচ্ছে। আর ঘটনায় ওয়ার্ড কমিশানার ও পৌর প্রকৌশলীর সাথে সমন্বয়হীনতা তারা দায়ী করেন।
সরজমিনে বুধবার (১১মে) কলারোয়া পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ন কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখাগেছে, পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ব্রিজ সংলগ্ন গরুহাট মোড়ের সড়কটি চরম ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে কলারোয়া উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শহীদ মিনার চত্তর থেকে বাজার অভিমুখী পশুহাটে ঢুকতে সড়কটির একাধিক স্থানে বৃষ্টির পানি জমে ছোট-বড় পুকুরের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া চৌরাস্তা মোড় থেকে কাঁচা বাজার সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে পশু হাট মোড় থেকে ব্রিজ অভিমুখে সড়কটি অধিক ঝুকিপূর্ন হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটির বড় গর্তগুলি পুকুরের আকার ধারন করছে। ফলে সাধারণ মানুষ হেটে চলাচল করলেও পানি-কাঁদা গায়ে লাগাতে হচ্ছে। এছাড়াও কলারোয়া পৌরবাসীর কাঙ্খিতনাগরিক সেবা থেকে নিশ্চিত করতে অবশ্যই অনুমোদন ছাড়াই অপরিকল্পিত ঘরবাড়ি নির্মান বন্ধ করা, যানজট নিরসন, সড়কের দুই পাশে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকরাসহ বিভিন্ন সমস্যার জর্জরিত কলারোয়া পৌরসভার দায়ীত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারাদের এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানান।
এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে একজন লিখেছেন,”এ যেন মাছ ধরার উপযুক্ত স্থান”,অন্য একজন লিখেছেন,”রাস্তা দিয়ে আসতে আসতে হটাত নদীতে এসে গেলাম।”
কলারোয়া পৌরসভার নাগরিক সেবা ও গুরুত্বপূর্ন সড়কের করুন অবস্থার বিষয়ে ২নং ওয়ার্ড কমিশনার আসাদুজ্জমান তুহিন ও মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান, আমরা পৌরসভার বিভিন্ন সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য কাজ করছি।তবে ব্রিজের সংলগ্ন রাস্তাটি আমাদের পৌরসদরের মধ্যে ধরা হয় না কারন এটা রোডস এ্যান্ড হাইওয়ের। এছাড়া দ্রুত ব্রিজ নির্মান হবে তখন রাস্তার কাজ সংস্কার হবে। তবে যাতে জরাজীর্ন সড়কগুলি সংস্কারে কাজটি দ্রুত শুরু করার জন্য পৌর কতৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুমোদন ও প্লান ছাড়াই বাড়ি নির্মানের বিষয়ে পৌর প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে নোটিশ দিয়ে আমরা অনুমোদনবিহীন বাড়ি নির্মান কাজ বন্ধ করে দেই। তিনি বলেন, কেই অভিযোগ না করলে এ বিষয় গুলি আমরা জানতে পারি না। সেই সুযোগে অনেকে অবৈধ ভাবে বাড়ি নির্মান করছে। তবে এ বিষয়ে দেখার জন্য পৌর কতৃপক্ষের অন্য কর্মকর্তা বা কর্মচারী আছে কিনা ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলেন, স্থানীয় মানুষরা আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল দেখে এসে উক্ত নির্মান কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া বর্তমানে কলারোয়া পৌরসভায় কতটি অনুমোদন বিহীন ও প্লান ছাড়াই আছে জানতে চাইলে তিনি বাড়ির সংখ্যার বিষয়ে মন্তব্য করেননি।
কলারোয়া পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান,গত কয়েকদিন আমি পৌর এলাকার কয়েকটি সড়ক পরিদর্শন করে বেহাল অবস্থার বিষয়ে দেখেছি।তবে রোড এ্যান্ড হাইওয়ের ইঞ্জিনিয়ার এসব কাজ করেছে গিয়েছে, কারন রাস্তার হেয়ারবো- করেছে কিন্তু পানি সরানোর কোন ব্যবস্থা রাখে নাই। ইতোমধ্যে আমরা পৌর কর্তৃপক্ষ এটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং অতিদ্রুত ছেলো মেশিন দিয়ে পানি সরানোর ব্যবস্থা করবো।