মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
কৃষকের ধান কেনার সময় সাড়ে ৪২ কেজিতে এক মণ!
কৃষকের ধান কেনার সময় সাড়ে ৪২ কেজিতে এক মণ!

কৃষকের ধান কেনার সময় সাড়ে ৪২ কেজিতে এক মণ!

নতুন সূর্য ডেস্কঃ

৪০ কেজিতে এক মণ ধান কিন্তু, কৃষকের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা (আড়তদার) ধান কিনছেন সাড়ে ৪২ কেজিতে এক মণ। তারই প্রতিবাদে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কৃষকরা আজ বুধবার সকালে পৌর শহরে বিক্ষোভ করে সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও কৃষকরা জানায়,উপজেলায় মোট ৭০ জন আড়তদার ধান ব্যাবসায়ী রয়েছেন। তারা এখান থেকে ধান কিনে ট্রাকের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন যায়গায় পাঠিয়ে থাকেন। আড়তদাররা দীর্ঘদিন ধরে ধান কিনে আসছেন সাড়ে ৪২ কেজিতে একমণ ধান। আড়াই কেজি বেশী নেওয়াকে স্থানীয় ভাষায় ঢলতা বলা হয়। সম্প্রতি উপজেলার কৃষকরা এক মণ ধানে আড়াই কেজি ধান (ঢলতা) বেশী নেওয়ায় ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তারই প্রেক্ষিতে ইউএনও গত শনিবার একটি আড়তদারের দোকানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করেন। এরপর আড়তদাররা ধান কেনা বন্ধ করে দেয়।

পরে জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে আবার ধান কেনা শুরু হয়। এরপর গতকাল রাতে সকল আড়তদার ব্যাবসায়ীদের নিয়ে উপজেলা পরিষদে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও বসে ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪১ কেজি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্ত আজ বুধবার আড়তদাররা আবার ধান কেনা বন্ধ করে দেয়। ব্যাবসায়ীদের দাবী সাড়ে ৪২ কেজিতে ধান না দিলে তারা ধান কিনবেন না। প্রতিদিনের ন্যায় কৃষকরা গ্রাম থেকে বাজারে ধান নিয়ে এসে পরেন বিপাকে। আড়তদাররা ধান কেনা বন্ধ রেখেছেন। এরই প্রতিবাদে নালিতাবাড়ী বাজার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা পরিষদে যায়। ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যান শেরপুরে একটি মিটিংয়ে থাকায় কৃষকরা আবার বিক্ষোভ করে ব্রীজের উপর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে।
পরে থানার ওসি এসে কৃষকদের সাথে কথা বলায় তারা অবরোধ তুলে নেয়। দুপুরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোকছেদুর রহমান লেবু ও থানার অফিসার ইনচার্জ বছির আহামেদ বাদল আড়তদারদের সাথে আলোচনা করে আপাদত দুইদিন ৪১ কেজিতে একমণ ধান হবে সেই সিদ্ধান্তে সমঝোতা হয়। পরে আড়তদাররা ধান কিনা শুরু করেন।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.মোকছেদুর রহমান লেবু বলেন, আড়তদারদের সাথে কথা বলে ওই ৪১ কেজিতে ধান কিনার সিদ্ধান্ত হয়। দুইদিন পর জেলার ব্যাবসায়ীদের সাথে কথা বলে পরবর্তীতে ঢলতার বিষয়টা নিয়ে আবার সিদ্ধান্ত হবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।