মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
ডুমুরিয়ায় ড্রাগন চাষে ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
ডুমুরিয়ায় ড্রাগন চাষে ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

ডুমুরিয়ায় ড্রাগন চাষে ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

মো: ইমরান শেখ, চুকনগর, খুলনা:

বাংলাদেশে আশা ভিয়েতনামের জাতীয় ফল ড্রাগন।এখন খুলনার ডুমুরিয়ায় ড্রাগন চাষে ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি।
ডুমুরিয়ার মাটিতে মিষ্টি ও টক-মিষ্টি স্বাদের ড্রাগনে স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং প্রসাধনী গণ থাকায় দিন দিন বাংলাদেশে এই ফলের চাহিদা বাড়ছে।
বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে ডুমুরিয়ায় । উপজেলার মাটি ও আবহাওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু হয়েছে এ ভিনদেশি ক্যাকটাস প্রজাতীয় ফলের।
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক ধরে প্রায় ১৪ কিলোমিটার গেলেই ডুমুরিয়া উপজেলা। উপজেলা থেকে ১৩ কিলোমিটার পথ গিয়ে শরাফপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে গেলেই চোখ পড়ে বি এম শাহিনুর রহমানের ড্রাগন বাগান। দুর থেকে দেখলে মনে হয় স্বযত্নে ক্যাকটাস লাগিয়েছে কেউ।
একটু পাশে যেতেই চোখ ধাধিয়ে যাবে অন্য রকম দেখতে এ লাল ফলে। প্রতিটি গাছে রয়েছে রহমান এ বাগানের সূচনা করেন। মাত্র ১০টি চারা দিয়ে। যেখানে এখন ১ হাজার গাছ রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে গাছের চারা। সেইসঙ্গে প্রতি সপ্তাহে ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিন মণ। খুলনা ও ডুমুরিয়া বাজারে পাইকারি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা দরে। আর প্রতিটি চারা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। তার এই চারা দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা সহ যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ।
ফুল, মুকুল এবং পাকা ড্রাগন। ২০১৫ সালে শাহিনুর কালিকাপুর গ্রামে বি এম শাহিনুরের ড্রাগন ফলের বাগান
আমাদের ডুমুরিয়া খুলনা প্রতিনিধি শেখ মাহতাব হোসেন কে জানান ঘেরের আইলে আমার মা লাগিয়েছিলেন তা ঘূর্ণিঝড় আাম্পানে নষ্ট হয়ে গেছে।
তারপরও এ বছর আশা করছি ৪ লক্ষাধিক টাকার ফল বিক্রি হবে। ডুমুরিয়া উপজেলায় এবছর ফলন ভালাে হচ্ছে কিন্তু এ ফলের জনপ্রিয়তা , মানুষের মধ্যে প্রচারণাও তেমন হয়নি। সরকারি পৃঠপােষকতা পেলে এবং বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে । প্রতিদিন এলাকার অনেক কৌতুহলী মানুষ আসে দেখতে। অনােকেই আমার কাছ থেকে চারা কিনছে, চাষাবাদও করছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের দেশের আবহাওয়া লাল, হলুদ এবং সাদা ড্রাগন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এটি লতানাে কাটাযুক্ত গাছ, যদিও এর কোনো পাতা নেই। গাছ দেখতে অনেকটা সবুজ ক্যাকটাসের মতো। ড্রাগন গাছে শুধু রাতে স্ব পরাগায়ন ফুল ফোটে। মূল লম্বা সাদা ও হলুদ রঙের হয়। তবে মাছি, মৌমাছি ও পােকা-মাকড় পরাগায়ন ত্বরান্বিত করে। কৃত্রিম পরাগায়ন করা যায়। এ গাছকে ওপরের দিকে ধরে রাখার জন্য সিমেন্টের/বাঁশের খুঁটির সঙ্গে ড্রাগনের চাষ হচ্ছে। ড্রাগন গাছে একটানা ছয় থেকে সাত মাস ফল ওপরের দিকে তুলে দেওয়া হয়। ড্রাগনের চারা বা কাটিং রােপণের ১০ থেকে ১৫ মাসের মধ্যেই ফল সংগ্রহ করা যায়। এপ্রিল-মে মাসে মুল আসে আর শেষ হয় নভেম্বর মাসে। ফুল আসার ৩০ থেকে ৪০ দিনের ডুমুরিয়াতে প্রথম বারের মতাে চাষ শুরু হয়েছে। এটি অনেক লাভজনক মধ্যে ফল সই করা যায়। নভেম্বর মাস পর্যন্ত ফুল ফোটা এবং ফল হওয়ায় এটির আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তরুণ উদ্যোক্তরা এটির ধরা অব্যাহত থাকে। এক একটি ফলের ওজন ২৫০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ১০০ থেকে ১৩০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।
৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। ড্রাগন চাষি বি এম শাহিনুর রহমান জানান, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ১০টি চারা দিয়ে আমি ড্রাগন চাষাবাদ শুরু করি। গত বছর মাত্র ১১ শতাংশ জমিতে বিক্রি হয়েছিল দুই লক্ষাধিক টাকা। আর এ বছর ৫১ শতাংশ জমিতে ড্রাগনের চাষাবাদ করেছি।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ড্রাগন মল বিদেশি ফল হলেও আমাদের দেশের আবহাওয়া এবং মাটি এটি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযােগী। ডুমুরিয়াতে বাউ-১, বাউ-২ জাতের পাওয়া যায়। এর বাজার মূল্য বেশি এবং অধিক পুষ্টি সমৃদ্ধ হওয়ায় আমরা এটি সম্প্রসারণের কাজ করছি। রূগােল্ড প্রকল্পের মাধ্যমে এটি প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় এর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতৱের উপপরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন এ ফসল দেশের মাটিতে চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এ ফল চোখকে সুস্থ রাখে, শরীরের চর্বি কমায়, রক্তের কোলেস্টেরল কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমানােসহ রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা বাড়ায়।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।