
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
খুলনার কয়রায় উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরামুখা গ্রামে কপোতাক্ষ নদীতে জোয়ারের অস্বাভিক পানি বৃদ্ধিতে ভেঙে যাওয়া বেঁড়িবাধটি স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু’র দিক নির্দেশনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আছের আলীর মোড়লের নেতৃত্বে হাতে হাত রেখে হাজার হাজার মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধটি রিংবাঁধ দিয়ে প্রাথমিকভাবে আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে।
দক্ষিণ বেদকাশির চরামুখা এলাকার ওই বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল গত রবিবার ভোররাতে। এতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৪/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধের ৩০০ মিটার বেড়িবঁাধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নদীভাঙনে ঘরবাড়ি, জমিজমা সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে স্থানীয় লোকজনসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের প্রচেষ্টায় সাংসদ ও পানি উন্নয়নের বোর্ডের সহযোগীতায় কোন রকম রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু দ্রুত এ রিং বঁাধের উপর আরো মাটি দিয়ে উঁচু না করলে বড় জোয়ারে আবারও বাঁধটি ভেঙ্গে প্লাবিত হবে।
দক্ষিণ বেদকাশি এলাকার স্বাধীন সমাজকল্যাণ যুবসংঘের সভাপতি মোঃ আবু সাঈদ খান বলেন, একবার বাঁধ ভাঙলে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড তলিয়ে যায়। অবকাঠামো নাজুক হয়ে পড়ে। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের অন্তত তিনটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। শুনেছি স্থানীয় এমপির প্রচেষ্টায় দেড় হাজার কোটি টাকার বাজেট এসেছে, এ বাজেট আমরা দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।
পানি উন্নয়ন বোডের্র উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ মশিউল আবেদিন বলেন, স্থানীয় এমপির দিক নির্দেশনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁশ, জিও ব্যাগ, সিনথেটিক বস্তা পেরেকসহ সার্বিক সহযোগীতা করে প্রায় ৩ হাজার মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে মানুষ প্রাথমিকভাবে রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে পেরেছে।উক্ত স্থানে জাইকার অর্থায়নে পায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাজেট পাশ হয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে যা দ্রুত কাজ শুরু হবে, ভাঙন স্থানের পানি আটকাতে সকল পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং পানি আটকানোর পর মূল ক্লোজারে কাজ করা হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, চরামুখার ভাঙনের উক্ত পয়েন্টে জাইকার অর্থায়নে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কাজ চলমান ছিলো, কিন্তু জায়গাটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারে ভেঙে যায়। জনগন পানি উন্নয়ন বোর্ডে সার্বিক সহযোগীতায় সেটা আটকাতে সক্ষম হয়। তিনি আরও বলেন কয়রার দক্ষিণ বেদকাশির ১৪/১ পোল্ডারে টেঁকসই বেঁড়িবাধ নির্মানের জন্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা পাশ হয়ে টেন্ডার ও ডিজাইন প্রক্রিয়াধীন আছে যা অচিরেই কাজ শুরু হবে।