শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
কলারোয়ায় চোখ জুড়ানো হলুদের সমারোহ
কলারোয়ায় চোখ জুড়ানো হলুদের সমারোহ

কলারোয়ায় চোখ জুড়ানো হলুদের সমারোহ

মোস্তফা হোসেন বাবলু,স্টাফ রিপোর্টারঃ

শীতের শিশির ভেজা সকালে কুয়াশার চাদরে সাতক্ষীরা সীমান্তবর্তী উপজেলা কলারোয়ার দিগন্ত জুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। উপজেলার বিস্তীর্ন মাঠের পর মাঠ যেন হলুদ বর্ণে ঘেরা এক সপ্নীল পৃথিবী। প্রান্তর জুড়ে উঁকি মারছে শীতের শিশির ভেজা সরিষা ফুলের দোল খাওয়া গাছগুলো। সরিষার সবুজ গাছের হলুদ ফুল শীতের সোনাঝরা রোদে যেন ঝিকিমিকি করছে। এ এক অপরুপ সৌন্দর্য।

বসন্তের আগমনী বার্তা পেয়েই যেন প্রকৃতি কন্যা সেজেছে ‘গায়ে হলুদ বরণ সাজে’। চারপাশের মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত ফসলের মাঠ।উপজেলার প্রায় প্রতিটি মাঠে এখন শুধু সরিষা ফুলের হলুদ রঙের চোখ ধাঁধানো বর্ণিল সমারোহ। মৌমাছির গুনগুন শব্দে ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ আর প্রজাপতির এক ফুল থেকে আরেক ফুলে পদার্পন এ অপরুপ প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই যেন মনোমুগ্ধকর এক মূহুর্ত। ভোরের বিন্দু বিন্দু শিশির আর সকালের মিষ্টি রোদ ছুঁয়ে যায় সেই ফুলগুলোকে।

গত ক’বছর ধরে সরিষার তেলের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। অনেক কৃষকরা এ বছর আমন ধান কাটার পরে পরই বিভিন্ন জাতের সরিষার চাষ শুরু করেছে। উপজেলায় কোথাও পতিত জমি পড়ে নেই।চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এখন শুধু ভালো ফলনের আশায় উপজেলা কৃষকরা রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কৃষকের পাশাপাশি বসে নেই কৃষি কর্মকর্তারাও।এদিকে চলতি রবিশস্য মৌসুমে কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা না দেয়ায় এবং সরিষা চাষের পরিবেশ অনুকূলে থাকায় সরিষার  বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলর ১১টি  ইউনিয়নে ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুরুতেই সরিষা ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের আনাগোনা দেখা দিলেও মাঠ পর্যায়ে সরিষা চাষিদেরকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ কারিগরী সহযোগিতার কারণে সরিষা ক্ষেত অনেকটা রোগ-বালাই মুক্ত হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

যথা সময়ে সরকারী পর্যায় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে মান সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে সরিষার বীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হলেও মাঠ পর্যায়ে বেশ কিছু জমি চাষের উপযুগী না হওয়ায় কিছু কৃষক ঠিক সময়ে সরিষা বপণ করতে পারেনি। তবে উপজেলার কেড়াগাছি, বোয়ালিয়া,ভাদিয়ালী,পাচপোতা,সোনাবাড়িয়া, চন্দনপুর ও চান্দুড়িয়া আত্রাই,  সবচেয়ে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ আবুল হোসেন মিয়া জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে ও কৃষক বাড়তি মুনাফা পাবে বলেও আশা করছি। 

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।