
ইউনুছ আলী,পাইকগাছা প্রতিনিধিঃ
রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচন । ইতোমধ্যে নির্বাচনের সকল ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
গত ১৭ জুলাই সাবেক নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলীর করোনা উপসর্গে মৃত্যু হলে আসনটি শূণ্য হয়। এর আগে গত ৩১ মার্চ ১৯’ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হন। এরপর গত মাসের তৃতীয় সপ্তাহে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী আওয়ামীলীগ থেকে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মোঃ আনোয়ার ইকবাল মন্টু ও বিএনপি থেকে উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ডাঃ আব্দুল মজিদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
পাইকগাছা উপজেলায় ১০ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১৯ হাজার ৭ শ’ ১৬ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১০ হাজার ৫ শ’ ৬৪ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯ হাজার ৫ শ’৫২ জন। নির্বাচনে মোট ভোট কেন্দ্র ৭৯ টি ও বুথ সংখ্যা ৫ শ’৭২ টি।
ভোটাররাও ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে রয়েছেন। কে বিজয়ী হবেন আসন্ন নির্বাচনে? আওয়ামীলীগ নাকি বিএনপি’র প্রার্থী? আ’লীগ চাইছে আসনটি ধরে রাখতে অন্যদিকে বিএনপি চাইছে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে। এনিয়ে ভোটাররাও চুল চেরা বিশ্লেষণ করছেন। তবে দলীয় ইমেজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ইমেজে দৃশ্যত আ’লীগ প্রার্থী আনোয়ার ইকবাল মন্টু এগিয়ে রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার ইকবাল মন্টু পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহচর ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক এমএনএ শহীদ এমএ গফুরের ছেলে তিনি। শহীদ এমএ গফুর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গঠিত খুলনা জেলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে ৯নং সেক্টরে সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সাতক্ষীরা ও খুলনায় ব্যাংক অপারেশন পরিচালিত হয় এবং ব্যাংকের সকল অর্থ মুজিব নগর সরকারের তহবিলে জমা দেওয়া হয়। ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে এমএ গফুর এমএনএ নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭২ সালের ২২ ফেব্রæয়ারী এমএ গফুরের আমন্ত্রণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাইকগাছার আলমতলা বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধনের মাধ্যমে উন্নয়নের শুভ সূচনা করেন। ১৯৭২ সালের ৬ জুন এমএ গফুর আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। তার যোগ্য উত্তরসূরী হিসাবে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার পাশাপাশি ১৯৯৭ সালে পৌরসভা সৃষ্টি হওয়ার পর সরকার মনোনীত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য, আনোয়ার ইকবাল মন্টু হাইস্কুল থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়। তিনি ১৯৭৪ সালে খুলনা জেলা ছাত্র লীগের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তিতে তিনি খুলনা ছেড়ে পাইকগাছায় এসে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
গত সংসদ নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশ কাটিয়ে বর্তমান সাংসদ আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু মনোনয়ন পেয়ে চমক সৃষ্টি ও নির্বাচিত হলে আরেক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ গাজী মোহাম্মদ আলীর কপাল খোলে উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। গত ১৭ জুলাই তার মৃত্যুতে দলীয় মনোনয়ন নামক সোনার হরিণের দেখা পান শহীদ সন্তান আনোয়ার ইকবাল মন্টু। দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের দাবি শেষ হাসি তিনিই হাসবেন।