শেখ খায়রুল ইসলাম পাইকগাছা (খুলনা ) প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছা উপজেলা থেকে যশোর জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি বিআরটিসি অনুমোদিত বাস ও লোকাল বাস চলাচল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী পরিবহন সিন্ডিকেটের স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে এই রুটে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ যশোরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, শিক্ষাগত ও যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যশোর ও খুলনা বরাবর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। একই সঙ্গে যশোরে অবস্থিত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র সচল বিমানবন্দর-যশোর বিমানবন্দর, যা খুলনা বিভাগের মানুষের আকাশপথে যোগাযোগের প্রধান ভরসা। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পাইকগাছাবাসীর জন্য কোনো সরাসরি বাস সার্ভিস নেই।
পাইকগাছা ও আশপাশের উপজেলার মানুষ যশোর বিআরটিএ অফিসে গাড়ির ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন, ট্যাঙ্ টোকেন, নম্বর প্লেট ও যানবাহনের যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত যাচাইসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে নিয়মিত যাতায়াত করেন। একই সঙ্গে যশোর শিক্ষা বোর্ডে শিক্ষকদের পরিক্ষার খাতা আনা নেয়া, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সনদ উত্তোলন, নাম ও জন্মতারিখ সংশোধনসহ নানা জরুরি কাজে প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকযশোরে যেতে বাধ্য হন।
এ ছাড়া যশোর বিমানবন্দর ব্যবহার করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, রোগী ও বিদেশগামী যাত্রীরা কিন্তু সরাসরি বাস না থাকায় তাদের খুলনা বা সাতক্ষীরা হয়ে ঘুরপথে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যাত্রা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইটের সময় ধরতে গিয়ে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, আশির দশকে কপিলমুনি থেকে যশোর পর্যন্ত সরাসরি বাস চলাচল ছিল, যা পরবর্তীতে রহস্যজনক- ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও রুটটি পুনরায় চালুর কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, নতুন কোনো বাস বা পরিবহন এই রুটে চলাচল করতে চাইলে প্রভাবশালী পরিবহন সিন্ডিকেটের বাধায় তা বাস্তবায়ন হতে দেয়া হয় না।
স্থানীয় এক পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, “যশোর রুটে সরাসরি বাস চালু হলে কিছু নির্দিষ্ট পরিবহনের যাত্রী কমে যাবে-এই আশঙ্কায় পরিকল্পিতভাবে নতুন সার্ভিস আটকে রাখা হচ্ছে।” সচেতন মহলের মতে, এটি কেবল যোগাযোগ সংকট নয়, বরং জনগণের চলাচলের অধিকার ও আঞ্চলিক সমতার প্রশ্ন। যশোর বিমানবন্দর, শিক্ষা বোর্ড ও বিআরটিএ অফিস থাকার পরও একটি জনবহুল উপজেলা সরাসরি বাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকা নজিরবিহীন।
এ ব্যাপারে বিশিষ্ট আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট এফএমএ রাজ্জাক বলেন, পাইকগাছা কপিলমুনী- ষশোর রুটে বিআরটিএসি অনুমোদিত লোকাল ও দূরপাল্লার বাস চালু হলে যশোর বিমানবন্দর ব্যবহার সহজ হবে, প্রশাসনিক ও শিক্ষাসেবা দ্রুত মিলবে এবং অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল বন্ধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তিনি এলাকাবাসীর পক্ষে জোর দাবি করেছেন যে,-পরিবহন সিন্ডিকেটের প্রভাবমুক্ত হয়ে অবিলম্বে পাইকগাছা- যশোর রুটে নিয়মিত বাস সার্ভিস চালু করতে হবে। অন্যথায় যশোর বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো কার্যত সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকেই যাবে।
