
বাগেরহাট থেকে শেখ মারুফ হোসেনঃ
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া কুমিরটি পুনরায় ওই দিঘিতে অবমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয়রা। আজ রোববার (৭ জুন, ২০২৬) দুপুরে ‘বাগেরহাটের সর্বস্তরের জনসাধারণ’-এর ব্যানারে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাজারের প্রধান খাদেম ও বিএনপি নেতা ফকির তরিকুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, মাজার কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয়দের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই প্রশাসন দিঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নিয়েছে। তিনি এটিকে বাগেরহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে এক ধরনের ‘প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন, এর আগেও চিকিৎসার কথা বলে দিঘি থেকে দুটি কুমির নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যা আর ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি অবিলম্বে কুমিরটি দিঘিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে মাজারের পরিচালনা কমিটির সদস্য, খাদেম এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগে হজরত খানজাহান আলী (রহ.) সুপেয় পানির আধার হিসেবে এ দিঘি খনন করেন এবং পানির সুরক্ষায় সেখানে কুমির ছাড়েন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ সময় ধরে মাজারের দিঘিতে কুমির ছিল। সর্বশেষ প্রাচীন বংশধরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর ২০০৪-০৫ সালের দিকে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে ছয়টি কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়। বিভিন্ন সময়ে সেগুলোর অধিকাংশ মারা যাওয়ার পর দিঘিতে কেবল একটি নারী কুমির অবশিষ্ট ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে দিঘির ওই কুমিরটির আক্রমণাত্মক আচরণে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। গত ৮ এপ্রিল কুমিরের কামড়ে একটি কুকুর মারা যাওয়ার ঘটনায় বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর গত ১ জুন রাতে দিঘির ঘাটে গোসল করতে নামলে কুমিরটি ফাতেমা আক্তার (৭) নামের এক শিশুকে টেনে নিয়ে যায়। পরদিন ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জননিরাপত্তার স্বার্থে গত ৩ জুন জেলা প্রশাসন কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করে।