Friday, 17th July 2026

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
কলারোয়ায় ছয় দিনেও সচল হয়নি সেই ভাঙা সাঁকো
কলারোয়ায় ছয় দিনেও সচল হয়নি সেই ভাঙা সাঁকো

কলারোয়ায় ছয় দিনেও সচল হয়নি সেই ভাঙা সাঁকো

কামরুল হাসান:

কলারোয়া পৌরশহরের কাঁচাবাজার সংলগ্ন বেত্রবতী নদীর ভেঙে যাওয়া কাঠের সাঁকোটি ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো চলাচলের উপযোগী করা হয়নি। গত সপ্তাহে পানির তীব্র স্রোতে সাঁকোটি ভেসে যাওয়ার পর থেকে নদীর দুই পাড়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করে পারাপার হচ্ছেন। এতে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ পথচারীরা।

শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে পড়া সাঁকোর অবশিষ্টাংশ এখনো নদীর দুই পাড়ে পড়ে আছে। কয়েক দিন আগের মতো আর নদীতে তীব্র স্রোত নেই; পানি ও স্রোত অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তবুও সাঁকোটি অস্থায়ীভাবে সচল করার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বাধ্য হয়ে মানুষ খেয়া নৌকায় পারাপার করছেন। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে পারাপারের সময় নৌকায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে। সন্ধ্যার পর রাত অবধি এখানে নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। দুই পাড়ে কোনো সড়ক বাতি না থাকায় সন্ধ্যার পরে অন্ধকারে অনেক ঝুঁকির মধ্যে নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে পারাপারকারীদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই কাঠের সাঁকোটি কলারোয়া কাঁচাবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং আশপাশের এলাকার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বাজারে সবজি বিক্রেতা আব্দুল্লাহ ও তারিকুল জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বাজারে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হলেও বর্তমানে নদীতে তেমন কোনো স্রোত নেই। এরপরও সাঁকোটি মেরামত বা বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না করায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, আপাতত দ্রুত একটি অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি দিতে বেত্রবতী নদীর ওপর একটি টেকসই কংক্রিটের সেতু নির্মাণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ এই কাঠের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হচ্ছে। কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, প্রতি বর্ষায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সংস্কারে সরকারি অর্থ ব্যয় হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান মিলছে না। তাই আর সাময়িক সংস্কার নয়, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণই সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে অন্তত অস্থায়ীভাবে সাঁকোটি সচল করা এবং দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।