কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রা উপজেলার গোবরা গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন পুকুরের মালিক মোঃ মহাসিন সানা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একই এলাকার তিনজনের বিরুদ্ধে কয়রা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোবরা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মহাসিন সানার সঙ্গে তার নিকট প্রতিবেশী ও বংশীয় লোকজনের পারিবারিক জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত ১২ সেপ্টেম্বর জায়গা-জমির অংশ ও দখলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ সময় তাকে গালিগালাজ, মারপিটের চেষ্টা এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতিসাধন ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন মহাসিন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মহাসিনের বাস্তু ভিটার ওপর থাকা প্রায় ১০ কাঠা জমির পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়। পুকুরের পাশে শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে তিনি বাইরে বের হন এবং কয়েকজনকে দ্রুত সরে যেতে দেখেছেন বলে অভিযোগ করেন। পরে পুকুরের পানিতে বিষের গন্ধ পান এবং বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানান।
পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে পুকুরের পাড়ে গিয়ে মহাসিন দেখতে পান, পুকুরের পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে রয়েছে। কিছু মাছ বিষক্রিয়ায় পানির ওপর লাফালাফি করছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে বিষয়টি দেখানো হয়।
মহাসিন সানা অভিযোগ করেন, পুকুরে রুই, ভেটকি, কাতলা, গলদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান মাছ চাষ করা হয়েছিল। বিষ প্রয়োগের কারণে এসব মাছ মারা গিয়ে তার আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অভিযোগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিষয়টি আপস-মীমাংসা করার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করায় থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে অলিউল্লাহ সানা, হেলেনা খাতুন ও ময়না খাতুনের নাম উল্লেখ করে ১৫ সেপ্টেম্বর কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোঃ মহাসিন সানা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানার কাছে আবেদন জানিয়েছেন অভিযোগকারী
