Saturday, 12th September 2026

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা বাজারে নদীভাঙনে আতঙ্কে ব্যবসায়ী-বাসিন্দা, হুমকিতে মসজিদ-বসতবাড়ি
আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা বাজারে নদীভাঙনে আতঙ্কে ব্যবসায়ী-বাসিন্দা, হুমকিতে মসজিদ-বসতবাড়ি

আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা বাজারে নদীভাঙনে আতঙ্কে ব্যবসায়ী-বাসিন্দা, হুমকিতে মসজিদ-বসতবাড়ি

 

এস,এম মোস্তাফিজুর রহমান,আশাশুনি।।আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা বাজারসংলগ্ন মরিচ্চাপ নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নদীর পাড় ও গাছপালা। ভাঙন এগিয়ে আসায় শত বছরের পুরোনো গোয়ালডাঙ্গা বাজার,জামে মসজিদ,অটোমিল,স মিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং শত শত পরিবারের বসতভিটা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এ বাজারসহ বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
২০২৩ সালের শুরুতে মরিচ্চাপ নদী খনন শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি,তখন নদীর মুখ প্রায় ২০০ ফুট রাখা হলেও সেতু ও আদর্শ গ্রাম রক্ষার কথা বলে বাজারসংলগ্ন অংশ সংকুচিত করা হয়। এলাকাবাসীর আপত্তি উপেক্ষা করেই খননকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরে খননকাজ শেষ হওয়ার পর নদীতে স্রোত বেড়ে গোয়ালডাঙ্গা বাজার এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে।
ভাঙন রোধে বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক,সংসদ সদস্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অস্থায়ীভাবে বালুভর্তি বস্তা ফেলা হলেও তা ভাঙন ঠেকাতে পারেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাইলিং করে বস্তা ফেলার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে করা হয়নি। স্রোতে বস্তার নিচের মাটি সরে যাওয়ায় বস্তাগুলো ৩ থেকে ৫ হাত নিচে নেমে গেছে। ফলে আবারও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রার্থী এস এম শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন,“ভাঙতে ভাঙতে নদী এখন লোকালয়ের একেবারে কাছে চলে এসেছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে গোয়ালডাঙ্গা বাজার, জামে মসজিদ ও চাদনী সেট এলাকা। ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধী শহিদুল গাজী ও রফিকুল সরদারের ঘর ভাঙনের মুখে পড়েছে। বেশ কিছু গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।”
তিনি বলেন, ভাঙনের গতি অব্যাহত থাকলে দ্রুত বাজার,মসজিদ,অটোমিল,স মিল ও বসতবাড়ি নদীতে ধসে পড়তে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, গোয়ালডাঙ্গা বাজার তাদের প্রধান রুটি-রুজির কেন্দ্র। বাজারটি হারালে বহু ব্যবসায়ী জীবিকা হারাবেন। একই সঙ্গে বসতভিটা নদীতে চলে গেলে পরিবারগুলোর সামনে নতুন করে বসতি গড়ার অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। মসজিদটি ভাঙনের মুখে থাকায় মুসল্লিদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বাজারের ব্যবসায়ী শরিফুজ্জামান মুকুল শিকারী বলেন,“বিষয়টি নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।” তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয়দের দাবি,ভাঙনকবলিত এলাকায় দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের পাশাপাশি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। তাদের আশঙ্কা,এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কোটি কোটি টাকার সম্পদ রক্ষার সুযোগও হারিয়ে যেতে পারে।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন,“গোয়ালডাঙ্গা বাজারসংলগ্ন বাঁধ ভাঙনের স্থান আমি পরিদর্শন করেছি। সংসদ সদস্যও এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। বিষয়টি আমি আবারও খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”##

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।