Friday, 18th September 2026

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
করুণা নয়, মেধার ভিত্তিতে চাকরি চান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান
করুণা নয়, মেধার ভিত্তিতে চাকরি চান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান

করুণা নয়, মেধার ভিত্তিতে চাকরি চান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান

দৈনিক নতুন সূর্য ডেস্ক: জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান (২৫)। জীবনের শুরু থেকেই নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে চলেছেন তিনি। অভাবের সংসারে থেকেও থেমে থাকেননি পড়াশোনা। নানা বাধা পেরিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন।তবে উচ্চশিক্ষার পরও এখনো জোটেনি স্থায়ী কোনো কর্মসংস্থান। এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে টেলিফোন অপারেটর হিসেবে কাজের সুযোগ চান তিনি। তবে করুণা নয়, নিজের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই চাকরি পেতে চান মিজান।মিজানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে।
মৃত খোরশেদ মিয়ার ছেলে তিনি। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে মিজান ষষ্ঠ। পরিবারের একমাত্র সন্তান হিসেবে উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন তিনি।মিজান ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৪ এবং ঢাকার সরকারি বাংলা কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.১৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। ২০২৩ সালে একই বিভাগ থেকে সিজিপিএ-২.৭৭ পেয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকেই স্নাতকোত্তর শেষ করেন তিনি।পড়াশোনার সময়ই মিজানকে হারাতে হয়েছে বাবা-মাকে। প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় মারা যান মা আয়েশা খাতুন।এরপর একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় মারা যান বাবা খোরশেদ মিয়া। পেশায় রিকশাচালক ছিলেন তার বাবা।২০২৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ভাদুঘরের হাবিবা বেগমকে বিয়ে করেন মিজান। পৈতৃক ভিটা না থাকায় ২০২৪ সালে সদর উপজেলার ঘাটুরা গৌতমপাড়ায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর বরাদ্দ পান তিনি। বর্তমানে সেখানেই স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন।
মিজানের স্ত্রী হাবিবা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। তার মাসিক বেতন ৮ হাজার টাকা। সংসারের খরচ চালাতে এই সামান্য আয়ই তাদের একমাত্র ভরসা।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মিজান এফ রহমান হলে থাকতেন। স্নাতকোত্তর শেষ করলেও স্থায়ী চাকরি না পাওয়ায় বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তার।এ অবস্থায় গত ৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে টেলিফোন অপারেটর পদে বিশেষ বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে উপাচার্যের কাছে লিখিত আবেদন করেন মিজান। আবেদনে তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, যোগাযোগ দক্ষতা, পারিবারিক ও আর্থিক পরিস্থিতি এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা দিলেও তখন তার ফল প্রকাশ হয়নি। শৈশবেই বাবা-মাকে হারানো মিজান দরিদ্র ও প্রতিকূল পারিবারিক পরিবেশের মধ্যে বেড়ে উঠে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিবাহিত এবং নিজের একটি পরিবার রয়েছে। স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে রয়েছেন তিনি।আবেদনে আরও বলা হয়, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার কারণে চাকরি পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, যোগাযোগ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় টেলিফোন অপারেটর পদে কাজের সুযোগ দেওয়া হলে তা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা মানবিক ও বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে প্রযোজ্য বিধি-বিধান ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাকে নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।মিজান বলেন, ‘আমি এখন স্ত্রীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল। আমার স্ত্রী একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। আমার একটি চাকরি খুব প্রয়োজন। আমি কারও করুণা চাই না, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি চাকরি চাই। ’

মিজানের স্ত্রী হাবিবা বেগম বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালে ৮ হাজার টাকা বেতনে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করি। প্রায়ই আমি অসুস্থ থাকি। এই আয়ে সংসার চালানো কঠিন। ’

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।