
পাইকগাছা খুলনা প্রতিনিধি:
পাইকগাছার দেলুটির কুমারেশ বাওয়ালী টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট’র প্রতিষ্ঠাতা দাতা ও সভাপতি দিবাকর বাওয়ালীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন দেশের বাইরে থেকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নামে অর্থ লোপাটসহ ব্যাপক দূর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।এসব ঘটনায় সুষ্টু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে ইতোমধ্যে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসী।অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যাপীঠটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যায়ের হিসেবে না দিয়ে অর্থ লোপাট, প্রতিষ্ঠানের কমিটির অন্যান্য সদস্যদের কাউকে কিছু না জানিয়ে কিংবা মতামত না নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে একক সিদ্ধান্তে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়, সভাপতির পদ ও ক্ষমতাকে পুঁজি করে একক সিদ্ধান্তে তিনি এসব অপকর্ম চালিয়ে আসছেন।এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে প্রতিবদনকালে উঠে আসে তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। জানাযায়, খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দেলুটির কালীনগর -দারুণমল্লিক এলাকায় ২০২০ সালে প্রয়াত শিক্ষানুরাগী কুমারেশ বাওয়ালীর নামে তার ছেলে দিবাকর বাওয়ালী প্রতিষ্ঠা করেন, কুমারেশ বাওয়ালী টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট। শুরু থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর নামে অন্তত অর্ধ শত শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদের বিপরীতে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিভিন্ন সময় এসব কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে এমপিও করণ থেকে শুরু করে নানা অযুহাতে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। কেউ দিতে কোন প্রকার গড়িমসি করলে তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয় কথিত আইনানুগ ব্যবস্থা।কথায় কথায় তিনি যে কাউকে চাকুরী দেন আবার চাকুরী থেকে বরখাস্তও করেন। সর্বশেষ তার স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হয়েছেন অত্র প্রতিষ্টানের অধ্যক্ষ দিবাকর সানা।এমপিওকরণের নামে সম্প্রতি তার কাছে ২ লক্ষ টাকা দাবি করায় তিনি তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সাংগঠনিক কমিটির কাউকে না জানিয়ে কিংবা মিটিং না ডেকে একক সিদ্ধান্তে ২০২৫ সালে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কয়রার বেদকাশী এলাকার পবন কুমার মন্ডলকে সহকারী সুপারিন্টেন্ড হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব দিয়েছেন।সরেজমিনে প্রতিবেদনকালে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী সুপারিন্ডেন্ট পবন কুমার মন্ডলের কাছে বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষক- কর্মচারীর সংখ্যা কত এবং তারা কারা এবং তার নিয়োগ বা দায়িত্বপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা না দেখিয়ে প্রসঙ্গ এড়িয়ে স্থানীয়দের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।এসময় সেখানে উপস্থিত প্রতিষ্ঠানের ল্যাব এসিস্ট্যান্ট আফজালুর রহমান জানান, তিনি প্রতিষ্টাকাল থেকে রেজুলেশনসহ লেখা থেকে শুরু করে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সভাপতির অনুমতিতে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনাসহ সভাপতির উপস্থিতিতে সাংগঠনিক কমিটির নিয়মিত সভা হয় বলেও দাবি করা হয়। যদিও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক চাকুরী হারানোর ভয়ে শঙ্কিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, তাদের কাছ থেকে ৬-৮-৯-১০ লক্ষ টাকা করে নিয়ে চাকুরী দিলেও অদ্যবধি কাউকে নিয়োগ পত্র, যোগদানপত্রসহ কোন কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়নি। এনিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে বাদ দিয়ে অন্র কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়।আর এসব ব্যাপারে তাকে বিভিন্ন সময় সহযোগীতা করেন, ল্যাব সহকারী আফজালুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও সর্বশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী সুপারিন্টেটন্ড পবন মন্ডল। এমনকি দেশের বাইরে অবস্থান করেও তার স্বাক্ষর নকল করেন ল্যাব সহকারী আফজালুর রহমান।এব্যাপারে স্থানীয় কালীনগরের পল্লব গোলদার, তপন গোলদার, শ্যামল ঘোষ, রুপক ঘোষ, হরিণ খোলার অমিয় রায়, নীতিশ রায়, শুশান্ত রায়, দারুনমল্লিকের সুবরি মন্ডল, হালদার চকের অখিল কুমার সহ অনেকেই জানান, দিবাকর বাওয়ালী কুমারেশ বাওয়ালী কেনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পর শুরু থেকে সেখানে চাকুরীর নামে ভিভিন্ন জনের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাট, অনিয়ম, দূর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। এ ব্যপারে পাইকগাছা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা বেগম বলেন নির্বাহী অফিসার অফিসে গণ সাক্ষরিত দরখস্ত পড়েছে সে লক্ষে তিন সদস্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাহী অফিসার ওয়সিউজ্জামান বলেন বিষয়টি শুনেছি জরুরী ভাবে দেখা হবে।