
মনিরুল ইসলাম মনি
সাতক্ষীরা সদরের মথুরেশপুর বাজারে জয়নালফুড বেকারীতে সম্পূর্ন কাঁচা নোংরা ঝুলকালির মধ্যে তৈরী হচ্ছে বেকারী সামগ্রী। এত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানুষের চায়ের দোকানের এবং নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার তৈরী হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
দেখলে শরীর শিউরে ওঠে। সাধারন মানুষের কি খাওয়াচ্ছে এই বেকারী মালিক! সত্যিই হতবাক হওয়ার মত। অসম্ভব ধরনের নোংরা খাবার খাওয়ানো হয় জয়নাল ফুড বেকারীতে।জয়নাল ফুড বেকারীতে মিশানো হচ্ছে পঁচা ও বাদ দেওয়া কেক, বিস্কুট, লাড্ডু পাউরুটি র্আরও কত কি! অতি দ্রুত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের দাবী করেছেন এলাকাবাসী।
সাত থেকে আটজন কর্মচারী সম্পূর্ন নোংরা অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় অপরিষ্কার হাতে পুরাতন ও নোংরা কাপড় পরিহিত অবস্থায় ২ হাতে মাড়াচ্ছে নিম্নমানের আটা ও জমানো ডাল্ডা।বেকারীর এক পাশে একটা লোক কৌটা থেকে কাপড়ের রং বের করে গামলায় গুলে কিভাবে কেক ও বিস্কট এর মধ্যে মিশাচ্ছে ছবি দেখলে অনুধাবন করা যায়।
সরেজমিনে সদরের মথুরেশপুর জয়নাল ফুডে যেয়ে দেখা যায়,যেসব মেশিনে আটার মন্ড
বানানো হয় তার দুর্গন্ধ দুর থেকে ভেসে আসছে।মেশিন গুলো কাজের শেষে কোনদিন ঢেকে
রাখে না।ফলে ইদুর ,তেলাপোকা ও জেটির আস্তানা এখন জয়নাল ফুড। যে মেশিন গুলোতে প্রতিদিন আটার মন্ড বানানো হয় তা কোনদিন ধোয়ামোছা করা হয়নি।
কারখানা তৈরীর পর থেকে আজ পর্যন্ত মেশিন গুলো ধোয়া মোছা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তা কারখানার শ্রমকিরা বলতে পারেন নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন মুদির দোকানী এ প্রতিবেদককে জানান, আমরা বেকারী দেখেছি কিন্তু এত নোংরা বেকারী কোথাও আছে কিনা আমাদের জানা নেই। নোংরাও অস্বস্থ্যকর পরিবেশ খাবার তৈরী হয় এখানে।
তথ্যঅনুসন্ধানে জানা যায়,জয়নালফুডের এক পাশে রাখা আছে বেকিং পাওডার ,কাপড়ের রং এর কৌটা,ইশ ও ছ্যাকারিন।ইশ এর ব্যবহ্রা হচ্ছে খাবার ফুলানোর কাজে।আবার সদ্য চিনি ও তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চিনির পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে চিনি মিশ্রিত ছ্যাকারিন ।কারখানায় তেরী এ সব খাবার শিশুরা খেলে লেবার ও কিডনি সব নষ্ট হবে এমনটাই জানাচ্ছে এলাকার সচেতন ব্যাক্তিরা।
খাবারে এ সব মেশানোর ব্যাপারে জয়নাল ফুডের মালিক নুর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি এভাবে দীর্ঘদিন আমার বেকারিতে খাবার তৈরী করে আসছি। কোন কোন সমস্যা হয়নি। জানা গেছে, কয়েকবার এই জয়নাল ফুড ভ্রাম্যমান আদালতে
জরিমানা দিয়েছেন কিন্তু সেই স্যাতসেতে পরিবেশে তিনি এখন ও বেকারী খাবার তৈরী করে বাজারে বিক্রি করের আসছেন। এব্যাপারে এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।