
নতুন সূর্য ডেস্কঃ
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করায় বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়াতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে দুই দেশ।
মঙ্গলবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সরকারি সফরে ফ্রান্সে যান। এ সময় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে শেখ হাসিনা ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করা, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে আসা এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে দুই পক্ষই দুই দেশই বিদ্যমান অশীদারিত্বকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরো সম্প্রসারিত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি চাহিদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দুই পক্ষ। সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সম্ভব্য প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো বিষয়ও সেখানে থাকবে। আর সে কারণে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সম্মতিপত্র স্বাক্ষরের বিষয়টিকে দুই পক্ষই স্বাগত জানিয়েছে।
এ সময় উভয় পক্ষই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করে। দুই দেশই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সকলের জন্য কল্যাণকর একটি মুক্ত, স্বাধীন, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ কামনা করেন। তারা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বজায় রাখতে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সমুদ্র অর্থনীতিতে সহযোগিতার সুযোগ বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে।
গ্লাসগো ও লন্ডন সফর শেষে মঙ্গলবার প্যারিসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম দিনেই এলিজে প্রাসাদে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর সঙ্গে তার বৈঠক হয়। দুই নেতা এক সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজেও অংশ নেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহা।