
নতুন সূর্য ডেস্ক:
বাগেরহাটে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী শীতকালীন পিঠা উৎসব। ‘গুড়’ নামের একটি সংগঠন জেলার ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে। উৎসবটি চলবে শনিবার (৮ জানুয়ারি) রাত পর্যন্ত।
গতকাল শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাট প্রেসক্লাব ভবনের তৃতীয় তলায় এ উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।
উৎসবে গ্রামীণ বাংলার হারিয়ে যেতে বসা হাতে বানানো নানা ধরনের পিঠা রাখা হয়েছে।
কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক পেইজ খুলে অনলাইনে পিঠা বিক্রি করে আসছেন নারী উদ্যোক্তারা। সাতজন নারী উদ্যোক্তা হাতে বানানো সেমাই পিঠা, খেজুরের রসে ভেজানো পিঠা, ভাপা কুলি, সেতু কুলি, চিতাই, পাঠিশাপটা, শিয়াই ও হাঁসের মাংস, রসের পায়েস, নারকেলের সন্দেসসহ নানা ধরনের পিঠা স্টলে নিয়ে এসেছেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরাজী বেনজীর আহম্মেদ, বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন, খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার আসিফ উদ্দিন রাখি, বাগেরহাট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আহাদ উদ্দিন হায়দার এবং উদ্যোক্তা গ্রুপ ডু ইট ইয়োর সেলফ (ডিআইওয়াই) এর চিফ অ্যাডমিন মাসুমা রুনা প্রমুখ।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, পিঠা গ্রাম বাঙলার একটি ঐতিহ্য। বাঙালী জাতির ঐতিহ্যবহন করে এই পিঠা। এটি ছিল এক সময় গ্রাম কেন্দ্রিক। যৌথ পরিবারে মেয়ে জামাই নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসলে আত্মীয় স্বজন সবাই মিলে পিঠা তৈরি করত। তখন বাড়িতে এক ধরনের উৎসবের আমেজ তৈরি হত। তখনকার গ্রাম বাংলার মা চাচীদের হাতে বানানো পিঠা যারা এখন দেখেননি তারা এর ফ্লেবারটা উপলব্দি করতে পারবেন না। গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা পিঠা নিয়ে যারা এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন তাদের দেখে ভাল লাগল। হারিয়ে যেতে বসা গ্রাম বাংলার পিঠা তৈরি করে শহরের পরিবেশে হাজির করার জন্য নারী উদ্যোক্তাদের অভিনন্দনও জানান তিনি।
নারী উদ্যোক্তা তামান্না আলম তন্নি বলেন, গ্রামীণ বাংলার পিঠা এখন বিলুপ্তির পথে। এই পিঠা যাতে বিলুপ্তি না হয় সে জন্যই হরেক রকম পিঠা তৈরি করে এই উৎসবে অংশ নিয়েছি। বাগেরহাটের ঐহিত্যবাহি সব পিঠা তৈরি করে এখানে নিয়ে এসেছি।