
নতুন সূর্য ডেস্কঃ
জলজ ফুলের রাণী পদ্ম। আর তা যদি হয় লাল পদ্ম। তাহলে তো কথা নেই। এ বর্ষায় গাইবান্ধার বিল-ঝিলগুলোতে মেলে ধরেছে নিজেদের সৌন্দর্যের ডালি। এক নজর তাকিয়ে থাকলে যেকোন মানুষের চোখ জুড়িয়ে যায়। আর পদ্ম ফুলের এই সাম্রাজ্যে কোন বাধাতেই যেন হার মানেনা দাপুটে শৈশব।
সদর উপজেলার কামারপাড়ার কাতলার বিলে জলের ওপর বিছানো থালার মতো গোলাকার সবুজ পাতা। ফাঁকে ফাঁকে লম্বা ডগার ওপর লাল সাদা পদ্ম ফুল। অসংখ্য পাপড়ির চমৎকার বিন্যাসে সজ্জিত একেকটি পদ্ম যেমন সুগন্ধ ছড়ায়, তেমনি যেকোন মানুষের হৃদয় কাড়ে খুব সহজেই। তাই হয়তো পদ্ম কাঁটার যন্ত্রণাও এর স্পর্শ থেকে আটকে রাখতে পারে না শৈশবকে।
কামারপাড়া গ্রামের শ্রাবণ নৌকা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিলের দিকে। নৌকার যাত্রী সিদরাতুল মুনতাহা (নূহা) বিল থেকে অনকেগুলো লাল পদ্ম তুলেছে। সেগুলো নৌকায় বসে এক হাতে মেলে ধরেছে অন্য হাতে পদ্ম ফুলের গোলাকার পাতাটি মাথায় ছাতা হিসেবে ব্যবহার করছে। এ ধরণের একটি দুর্লব ছবি তুলেছেন গাইবান্ধার ফটো সাংবাদিক কুদ্দুস আলম। ছবিটিই বলে দিচ্ছে ঘটনার পুরো বর্ণনা।
কামারপাড়া গ্রামের সিদরাতুল মুনতাহা (নূহা) জানায়,পদ্ম ফুল তুলতে গিয়ে কাটার খোঁচা লেগেছে। কিন্তু ফুল তোলার পর সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে। পদ্ম ফুলের সাম্রাজ্যে একাই থাকে না তারা। সাথে আছে শাপলা, শালুকসহ বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদের বসবাস। জলাভ‚মিতে ফুটে থাকা পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য যতোটা না কাছে টানে। শিশুরা তার চেয়েও বেশী আগ্রহী পদ্ম খোচার প্রতি।
বৈশাখ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত কামারপাড়ার কাতলার বিল, বাদিয়াখালীর রিফাইতপুর, সাঘাটা উপজেলার যাদুর তাইড় গ্রামে দেখা মেলে লাল ও সাদা পদ্মের। পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য্য আর অপরুপ শোভা দুর-দুরান্ত থেকে ফুলপ্রেমীদের টেনে আনে পদ্ম ফুলের গ্রামগুলোতে। এই বিলে লাল ও সাদা পদ্ম চোখে পড়লেও নীল পদ্ম দেখা যায় না। উদ্ভিদবিদদের মতে, বেশিরভাগ খাল, বিল জলাশয়ে পানি না থাকায় দিনদিন অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়ছে পদ্মের মতো অনেক জলজ উদ্ভিদ।