মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুচিকিৎসা মেলে মনও ভাল হয়
কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুচিকিৎসা মেলে মনও ভাল হয়

কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুচিকিৎসা মেলে মনও ভাল হয়

জাকির হোসেন

কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরো চত্বর জুড়ে বাহারী ফুল আর সবুজের সমারোহ। ভিতরে ঝকঝকে তকতকে হাসপাতালটির পুরাতন ভবনের বাহিরের প্লাস্টারের খসে পড়াটা কিছুটা বেমানান মনে হলেও হাসপাতাল চত্বরের মসজিদের সামনের ফুল বাগানটি আরও দর্শণার্থীদের মন কেড়েছে। এসব দৃশ্য কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের।

হাসপাতালটিতে সেবা নিয়ে এলাকার মানুষ অনেকটা সন্তষ্ট। যদিও হাসপাতালটিতে মোটামুটি সকল সেবা থকলেও গাইনি সার্জন ও গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় কিছুটা অস্বস্তিতে আছেন উপজেলার গর্ভবর্তী নারীরা। যদিও এ বিষয়ে সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: জিয়াউর রহমান।

তবে দুই বছর আগেও কলারোয়া হাসপাতালের চিত্র এ রকম ছিল না। হাসপাতাল চত্বর খোলা জায়গা পতিত অবস্থায় পড়ে ছিল। তবে এখন হাসপাতালের পতিত জায়গাগুলো যেন হেঁসে উঠেছে। হাসপাতালের ভেতরে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বারান্দা প্রায় সময়ই অপরিচ্ছন্ন থাকত। এখন হাসপাতালের পরিবেশ হয়ে উঠেছে ঝকঝকে তকতকে।

এই পরিবর্তনের জন্য যাদের সবচেয়ে বেশী অবদান তারা হলেন কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জিয়াউর রহমান ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: শফিকুল ইসলাম এবং তাদের সহযোগী হিসেবে সকল সময় সহযোগীতা করেছেন হাসপাতালের প্রধান হিসাব সহকারী আবুল কালাম আজাদ।

ডা: জিয়াউর রহমানের নেতৃতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সুন্দর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করে স্বাস্থ্যসেবার মানকে যে চমৎকার বদলে দেওয়া যায় তারই নজির স্থাপন করেছেন কলারোয়া স্বাস্থ্য বিভাগ।

পরিবেশগত উন্নতি ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নও চোখে পড়ার মত। গত দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ করেছেন আউটডোরের টিকিট কাউন্টার, স্বাস্থ্য শিক্ষা কেন্দ্র, করোনা টিকার বুথ, বিষ খাওয়া রোগীদের জন্য ওয়াশ শেড, টি.বি রোগীদের পরীক্ষার জন্য জীন-এক্স পার্ট, ডিজিটাল এক্সরে, সিসি টিভি ও একটি অত্যাধুনিক এ্যামবুলেন্স। গত বৃহ:স্পতিবার হাসপাতালে ঢুকেই চোখে পড়ল প্রত্যেক ওয়ার্ডের সামনে রোগী দর্শণার্থীদের জন্য বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালের দেওয়ালে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন সচেতনতা মূলক ও স্বাস্থ্য বিভাগের সেবা সমূহ লেখা আছে।

হাসপাতালের এই পরিবর্তন সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জিয়াউর রহমান বলেন, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে যখন আমি এখানে যোগদান করি তখন থেকেই আমি ও আমার টিম নিয়ে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করি। মানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার। এছাড়া ধাপে ধাপে অন্যান্য লক্ষ অর্জন করার চেষ্টা করেছি। সীমিত সামর্থের মধ্যেই সেবার ক্ষেত্রেও যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছি। আমাদের সকলের চেষ্টাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাৎসরিক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ রেটিংসে গত ডিসেম্বরে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সারা দেশে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে। এটা অবশ্যই কলারোয়া বাসীর গর্ব। সকলের চেষ্টা ও সদিচ্ছা থাকলে সীমিত সামর্থেও কর্ম পরিবেশ তৈরি ও সেবা দেওয়া সম্ভব সেটা প্রমান করেছি আমরা। তিনি আরও সামনে এগিয়ে যেতে সকলের সহযোগীতা কমনা করেছেন।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।