
নতুন সূর্য ডেস্কঃ
টাকার অভাবে থমকে গেছে বাবার সঙ্গে চা বিক্রি করেও গোল্ডেন ‘এ প্লাস’ পাওয়া শামিম কবির নিরবের ভর্তি। অনিশ্চিয়তায় দিন কাটছে তার। কলেজে ভর্তি হতে তার প্রয়োজন এককালীন ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু গরীব পিতার পক্ষে এককালীন ১৪ হাজার টাকা যোগাড় করা সম্ভব হয়নি। তাই কলেজে ভর্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে নিরবের পরিবার।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সিদ্দিক মোড়ল সাতক্ষীরা শহরের শিশু হাসপাতালের বিপরীতে চা বিক্রি করেন। প্রতিদিন সকাল-বিকাল বাবার কাজে সাহায্য করে শামিম কবির নিরব। মাঝে মধ্যে চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে পড়াশুনা করে। এসএসসিতে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ পেয়েছে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ এলাকার শামিম কবির নিরব।
জানা যায়, শামিম সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অসাধারণ সাফল্যে মানুষকে অবাক করে দেয়। কিন্তু টাকার অভাবে সেই শামিমের লেখাপড়া বন্ধের পথে। সে ভর্তির জন্য কলেজ চয়েসে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, যশোর ক্যান্টমেন্ট কলেজসহ ৫টি কলেজ চয়েস করে অনলাইনে আবেদন করে। যশোর ক্যান্টমেন্ট কলেজের সুনাম শুনে সেটাই প্রথম চয়েস দিলে সেখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু সেখানে ভর্তি হতে হোস্টেল খরচসহ এককালীন প্রায় ১৪ হাজার টাকা জমা দিয়ে ভর্তি হতে হবে। কিন্তু তার দরিদ্র বাবার পক্ষে এই টাকা দাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকের কাছ থেকে কিছু টাকা সাহায্য পেলেও ১৪ হাজার টাকা যোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সাতক্ষীরা সিটি কলেজ এলাকায় মাত্র ৫শতক জমিতে বাবা-মা তিন ভাইসহ ৫জন বসবাস করে তারা। আর বাবার কাজে সাহায্য করছেন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শামিম কবির নিরব। তার মা আঞ্জুমান আরা তাদের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করছেন। চায়ের দোকানের আয়ের উপর নির্ভর করে চলে ৫জনের সংসার। চায়ের পাশাপাশি কেক, বিস্কুট, চিপস ও পানি বিক্রি করেন তিনি। সব বিষয়ে জিপিও-৫ পেয়েও হাসি নেই শামিমের মুখে। তার স্বপ্ন ভর্তি হবে ঢাকার নটেরডেম কলেজ অথবা যশোর ক্যান্টমেন্ট কলেজে। কিন্তু দরিদ্র বাবার পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। করোনার লকডাউনে চায়ের দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে দুই মাসের অধিক সময়। ছেলের এতো ভালো রেজাল্টেও মানুষের মিষ্টি মুখ করাতে অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার নিতে হয়েছে।
সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শামিম কবির নিরব বলেন, দরিদ্র পরিবারে জন্ম, করার কিছু নেই। বাবা চায়ের দোকান একা সামলে উঠে পারে না। তাই তার কাজে সাহায্য করা করেও আল্লাহর রহমতে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল এসেছে। কিন্তু আমার স্বপ্ন ছিলো ঢাকার নটরডেম কলেজে ভর্তি হওয়ার। সেটাতো হলো না। যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য নির্বাচন করেছিলাম। কিন্তু ১৪ হাজার টাকার মতো লাগবে। সেটা আবার বাবা যোগাড় করতে পারছে না। কী হবে জানিনা। এক বছর নষ্ট হয়ে যাবে মনে হচ্ছে।
শামিমের বাবা সিদ্দিক মোড়ল বলেন, ছোট একটা চায়ের দোকানে ৫জনের সংসার চলে। শামিম আমার সাথে চা বিক্রির কাজে সাহায্য করে ও বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। আমাদের ৫জনের সংসার ঠিক মতো চলে না। ওকে পড়াবো কীভাবে। ও (শামিম) ঢাকার নটরডেমে পড়তে চেয়েছিল পরে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ নির্বাচন করেছে। কিন্তু টাকা নেই, কীভাবে পড়াবো। এখন কোন দানশীল ব্যক্তি যদি তার লেখা পড়ার ভার বহন করে, তবে কৃতজ্ঞ থাকব। তাহলে সে পড়া লেখা চালিয়ে যেতে পারবে।
সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শামিম ছোটবেলা থেকেই মেধাবি ও পরিশ্রমী। ক্লাস ওয়ানে ভর্তি পরীক্ষায় ১৩৩ জন ছাত্রের মধ্যে মধ্যে ২য় স্থান অর্জন করে। ক্লাস ফাইভের সমাপনী পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ এবং জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়। বাবার সাথে চায়ের দোকানে কাজ করেও সব বিষয়ে বিষয়ে জিপি এ-৫ পেয়েছে পরিবারের অভাব অনাটন তাকে দমাতে পারেনি। সে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক অনেক বিষয়ে প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন হবে। সেজন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান মানুষরা এগিয়ে না আসলে শামিমের মতো একজন মেধাবী ছাত্রকে আমরা হারাবো।
শামিমের বাবা সিদ্দিক মোড়লের মোবাইল নং : ০১৭২৭০১৩৯৮৪।