বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
কলারোয়ার পাট চাষীরা পাটের ক্ষতি পুষিয়ে নিলেন, পাটকাঠি বিক্রয় করে
কলারোয়ার পাট চাষীরা পাটের ক্ষতি পুষিয়ে নিলেন, পাটকাঠি বিক্রয় করে

কলারোয়ার পাট চাষীরা পাটের ক্ষতি পুষিয়ে নিলেন, পাটকাঠি বিক্রয় করে

মোস্তফা হোসেন বাবলু, স্টাফ রিপোর্টারঃ

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় এবার পাটের আঁশের চেয়ে পাটকাঠির কদর বেড়েছে কয়েক গুণবাণিজ্যিকভাবে পাটকাঠির ব্যবহার বৃদ্ধি ও দাম বেশি হওয়ায় এ কাঠির যত্ন নিচ্ছেন কৃষকরা। এছাড়া চলতি মৌসুমে পানির অভাবে পাটের আঁশে যে ক্ষতি হয়েছে পাটকাঠি দিয়ে তা পুষিয়ে নিতে চান চাষিরা।
কৃষকরা জানিয়েছেন- বৃষ্টি আর বর্ষার পানির অভাবে এবার পাট জাগ দিতে হিমশিম খেতে হয় চাষিদের। এমনকি পানির অভাবে ক্ষেতেই পাট শুকিয়ে মরে গেছে। এমন পরিস্থিতে কৃষকরা মাটি খুঁড়ে পাট জাগ দিতে বাধ্য হন। এতে নষ্ট হয়ে যায় পাটের রং। এতে পাটের দামও তুলনামূলক কম পাচ্ছেন কৃষকরা। তবে পাটকাঠির রং কিছুটা নষ্ট হলেও দামে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তাই পাটের আঁশের লোকসান পুষিয়ে নিতে পাটকাঠিতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন চাষিরা।


উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের পাটচাষি রসুল মিয়া ও বলিয়ানপুর গ্ৰামের বাক্কার গাজী সাংবাদিকদের বলেন পানির সমস্যার কারণের এবার পাট নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। মাটি খুঁড়ে আর নোংরা জলাশায় পাট জাগ দিয়ে পাটের রং নষ্ট হওয়ায় দাম প্রতিমণে চার থেকে পাঁচশ টাকা কম পেতে হচ্ছে। তবে পাটকাঠির রঙের তেমন পরিবর্তন হয়নি। আবার পাটকাঠির দামও বেশি। তাই পাটপাঠিতে গুরুত্ব দিয়ে যত্ন নিতে শুরু করেছি।
তারা জানান, এক বিঘা জমিতে ১৬থেকে ১৮ মণ পাট হয়। তা থেকে প্রায় ২ হাজার আঁটি কাপকাঠি বের হয়। প্রতি আঁটি পাটিকাঠি পাঁচ টাকা দরে বিক্রি করছি। এতে প্রতিবিঘা জমিতে প্রায় ১০ হাজার টাকার পাটকাঠি বিক্রি করতে পারবো।
উপজেলা ভাদিয়ালী গ্রামের আফাজউদ্দীন বলেন, পাটকাঠি আমাদের গ্রামঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। মাটির চুলায় রান্নার প্রধান জলানি হিসেবে পাটকাঠির ব্যবহার করি। তাছাড়া উপজেলার পৌরসদর এলাকায় কয়েকটি ইতালিয়ান টালির কারখানা আছে এসব কারখানার মাটি দিয়ে তৈরি টালি গুলোকে পনের ভিতরে রাখার পর প্রথম পর্যায়ে পাটকাঠি আগুন দিয়ে পণ পুড়ানো শুরু করা হয়। এসময় টালি কারখানার মালিকরা গ্রামের কৃষকদের নিকট থেকে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যায়। এতে এবার পাটকাঠি বিক্রি করে পাটের লোকসানও অনেকটা পুষিয়ে যাবে। পাটের পাশাপাশি পাটকাঠিরও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার বাড়ায় একই ফসলে আমাদের বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা হয়েছে।উপজেলা কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসান বলেন, জ্বালানী হিসেবে, বাড়িঘর ও সবজি ক্ষেতের বেড়া, মাচা, পান বরজ, ইত্যাদি কাজে পাটকাঠির ব্যবহার দীর্ঘকাল আগে থেকেই হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে ব্যাপক হারে পার্টিকেল বোর্ড তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে পাটকাঠি। পাটখড়ি বা পাটকাঠির কার্বন চারকোল নামে পরিচিত। চীনসহ বিভিন্ন দেশে পাটকাঠি পুড়িয়ে পাওয়া কার্বন থেকে আতশবাজি, কার্বন পেপার, প্রিন্টার ও ফটোকপিয়ারের কালি, মোবাইলের ব্যাটারি, দাঁত পরিস্কারের ওষুধ ও সারসহ নানা পণ্য তৈরি করা হয়।
তাছাড়া পাটকাঠি থেকে একটিভেটেড কার্বন ও উৎপাদন করা হয় যা ওয়াটার পিউরিফিকেশন প্লান্টে ব্যবহার করা হয়। এসব কারখানা এ এলাকায় স্থাপন করা গেলে পাটকাঠির চাহিদা আরো বূদ্ধি পেত।ছবি আছে,,,,

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।