মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
ডুমুরিয়ায় ভুল চিকিৎসায় নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ লাপাত্তা
ডুমুরিয়ায় ভুল চিকিৎসায় নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ লাপাত্তা

ডুমুরিয়ায় ভুল চিকিৎসায় নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ লাপাত্তা

মোঃ ইমরান শেখ, চুকনগর, খুলনাঃ

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজলার চুকনগর হালিমা মেমোরিয়াল নার্সিং হোমে ভুল চিকিৎসায় নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার ডুমুরিয়া থানায় নবজাতকের পিতা মো: হেলাল উদ্দীন গাজী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। সোমবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো: হামিদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এ সময়ে ক্লিনিক মালিক কামাল হোসেনসহ অন্যরা লাপাত্তা রয়েছে।

সূত্রে জানা যায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর কেশবপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামের মো: হেলাল উদ্দীন গাজী তার সন্তান সম্ভাবনা স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম (২০) কে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করেন। এ সময়ে ক্লিনিক মালিক যিনি কোন চিকিৎসক নন তিনিসহ অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক বয়োবৃদ্ধ মো: বরকত উল্লাহ সহ কয়েকজন নার্স তার অপারেশন করে। এসময়ে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। অপারশন করার সময়ে নবজাতক পুত্রের পেটে ছুরিরাঘাতে নাড়িভুড়ি বেরিয়ে যায়। তখন তারা শিশুটির কাটা পেট সুপার গ্লু আটা দিয়ে জোড়া দিয়ে ক্লিনিক থেকে বের করে অন্য ক্লিনিকে নিতে বলেন। কিন্তু শিশুটিকে বাচানো সম্ভব হয়নি। শিশুটি মারা গেলে হাসপাতালের মালিক কামাল হোসেন, নার্স তহমিনা বেগমসহ অন্যরা এ নিয়ে কোন বাড়াবাড়ি না করতে এবং ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। এদিকে এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে একটি কুচক্রী মহল ম্যানেজ মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, ধুরন্ধর কামাল হোসেন ক্লিনিক ব্যবসায় আড়ালে মূলত নারীদের দিয়ে দেহ ব্যবসা, মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। প্রায় প্রতিরাতেই মদ ও নারীদের আসর বসে। তার ক্লিনিকের কথিত নার্সরা কেউই ডিপ্লোমা পাস নয়। কামাল হোসেন খুঁজে খুঁেজ সুন্দরী, অসহায়, দরিদ্র, স্বামী পরিত্যক্তাদের মোটা অংকের বেতনের লোভ দেখিয়ে নার্স হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে নানাভাবে তাদেরকে ফাঁদে ফেলে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়। লোকলজ্জার ভয় ও জীবীকার তাগিদে মুখ বুঝে অন্যায়কে সহ্য করতে হয়।
এসকল বিষয়ে জানতে কামাল হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার এক ঘনিষ্টজন জানায় জরুরীকাজে কামাল হোসেন খুলনায় গেছে।

এ ঘটনায় ক্লিনিক মালিক কামাল হোসেনকে প্রধান আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো: হামিদুল হক বলেন, আসামীদের গ্রেফতারে ক্লিনিকে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: সুফিয়ান রুস্তম বলেন, চুকনগর হালিমা মেমোরিয়াল নার্সিং হোমে একটি নবজাতক মারা গেছে বলে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খুলনা জেলা সিভিল সার্জন ডা: সুজাত আহমেদ বলেন, চুকনগর হালিমা মেমোরিয়াল নার্সিং হোমে এক প্রসূতির নবজাতক মারা গেছে বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।