
স্টাফ রিপোর্টার
দেশে বেশিদিন উত্তপ্ত থাকা অঞ্চলের শীর্ষে রয়েছে যশোর,দ্বিতীয় চুয়াডাঙ্গা, তৃতীয় রাজশাহী, চর্তুথ ঈশ্বরদী এবং পঞ্চমে রয়েছে দক্ষিণের শহর সাতক্ষীরা।গবেষণার তথ্য বলছে, ৩১ বছরে যশোর সর্বোচ্চ ৯২৭ দিন উত্তপ্ত ছিল, চুয়াডাঙ্গা ৯০০ দিন, রাজশাহী ৮৮৬ দিন, পাবনার ঈশ্বরদীতে তপ্ত দিনের সংখ্যা ছিল ৭৮০ এবং সাতক্ষীরায় ৫২৬ দিন। আর রাজধানী ঢাকায় তপ্ত দিনের সংখ্যা ছিল ২৫৫ এবং চট্টগ্রাম মাত্র ৯ দিন তপ্ত ছিল।
চলতি জুন মাসের প্রথম সাত দিনের প্রতিদিন দেশের কোনো না কোনো স্থানে বয়ে গেছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এই সাত দিনের মধ্যে তিন দিন তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে যশোরে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ৩১ বছরে দিনের হিসাবে সবচেয়ে বেশি দিন তপ্ত ছিল যশোর। তপ্ত দিনগুলোয় যশোরে তাপমাত্রা কখনোই ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, তাপমাত্রা যদি ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, তাহলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে। ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলা হয়। তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয় যখন তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। আর অতি তীব্র হয় ৪২ ডিগ্রি বা তার বেশি হলে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব বিভাগের অধ্যাপক কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ভারতের মরু অঞ্চল রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে তাপপ্রবাহ বাংলাদেশে প্রবেশ করে যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চল দিয়ে। ফলে উচ্চ তাপমাত্রার বাতাস বাংলাদেশের পশ্চিম দিক থেকে প্রবেশ করে দেশের পশ্চিমাঞ্চল বেশি উত্তপ্ত করে তোলে এবং এ অঞ্চলে বেশি দিন তাপপ্রবাহ থেকে যায়।
মার্চ থেকে মে—এই তিন মাস দেশে প্রাক্–মৌসুমি বায়ুর সময়। দেশের সবচেয়ে উষ্ণ মাস হলো এপ্রিল ও মে মাস। এ গবেষণায় এই প্রাক্–মৌসুমি বায়ুর সময়ের তাপপ্রবাহের সময়টাই দেখা হয়েছে।আহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে জুনের প্রথম ছয় দিন দেশের কোথাও না কোথাও তীব্র তাপ্রবাহ ছিল, যা ৪৪ বছরের মধ্যে রেকর্ড। এর আগে ১৯৭৯ সালে সর্বোচ্চ জুনের প্রথম পাঁচ দিন তীব্র তাপপ্রবাহ ছিল।