মোস্তফা হোসেন বাবলু:
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার খোরদো বাজারে শীতের শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে খেঁজুরের গুড় বেচাকেনার হাট।প্রাচীন যুগ থেকে এই বাজার গুড়ের হাট নামে পরিচিত। শীত মৌসুম আসলে বাজারে খেজুরে গুড় ও পাটালী আসা শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গুড় ব্যাপারীরা এসে এই বাজারে গুড় কেনার আগাম ঘরভাড়া নেন। সেজন্য শীত মৌসুম আসলেই দেখা যায় খেঁজুর গাছের গাছিদের ব্যস্ততার দৃশ্য।
স্থানীয়রা জানান, ‘কলারোয়ার খেঁজুরের রসের রয়েছে আলাদা খ্যাতি বা জস। সেই খেঁজুরের রস জ্বালিয়ে তৈরি করা হয় গুড় ও পাটালি। উপজেলার খোরদো বাজারে খেঁজুর গুড় ও পাটালির হাটে গুড় ও পাটালি বিক্রি করতে আসেন পার্শ্ববর্তী যশোর জেলার মনিরামপুর ও কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৩০/৩৫ টি গ্রামের খেঁজুর গাছের গাছিরা।’
একই ভাবে মনিরামপুরের চাকলা গ্রামের আ: রহমান জানান, ‘ব্যাপারিরা গুড়ের দাম কম বলে। যে দাম বলে, সেই দামে বিক্রয় করলে লাভ তো দূরে থাক, কষ্টের মুল্যও হবে না।’অপরদিকে, হাটে আসা ব্যাপারিরা দাবি করেন, ‘গাছিরা তাদের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন।’তারা আরো বলেন, ‘গত বারের চেয়ে এ বছর গুড়ের দাম অনেক বেশি।’
গুড়ের ব্যাপারি কবির জানান, ‘এবছর গুড়ের দাম বেশি। গত বছর যে গুড়ের ভাড় ছিলো ১২০০থেকে ১৩০০ টাকা, এ বছর সেই গুড়ের ভাড় সাড়ে পনের শো’ থেকে ২ হাজার টাকা ক্রয় করতে হচ্ছে।’
স্থানীয়রা জানান, ‘এ গুড়ের হাট থেকে ব্যাপারিরা ভাড় ভর্তি গুড় ক্রয় করে নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে চলে যান এবং প্লস্টিকের ড্রামে ভর্তি করে বা বিভিন্ন উপায়ে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সরবরাহ করে থাকেন। বিশেষ করে দেশের উত্তরের জেলা গুলোর পাশাপাশি বরিশাল, পটুয়াখালী ও অন্যান্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।’
এদিকে স্থানীয় গুড় ব্যবসাযীরা বলেন, ‘খোরদো বাজারের খেঁজুর গুড়ের হাট থেকে গুড় কিনে ড্রাম ভর্তি করে গোডাউনে স্টক করেও রাখেন অনেক ব্যবসায়ীরা। পরে শীত মৌসুম চলে গেলে সেই গুড় ও পাটালি চড়া দামে বিক্রয় করে থাকেন তারা।’
সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে এখানকার খেঁজুরের গুড় হাট।
