
তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর মৌজার খাসজমি ও বসতভিটা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুই ভুক্তভোগী।এ সময় তারা জমি বিক্রির নামে অর্থ গ্রহণ করে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, বসতভিটা দখলের অপচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দীর্ঘদিনের ভোগদখলকৃত সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সোমবার (৮ জুন) বেলা ১২টায় কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা খাতুন ও আশারফ গাজীর স্ত্রী শাহানারা পারভীন।
লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, কৃষ্ণনগর মৌজার ২৩৩ নম্বর খাসজমিতে তাদের পরিবার প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী তারা দুই দফায় ডিসিআর (ডিমান্ড কালেকশন রেজিস্টার) প্রাপ্ত হয়ে জমিটি ভোগদখল করছেন। চলতি বছরও পুনরায় ডিসিআর পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের বৈধ ভোগদখল ও প্রয়োজনীয় সরকারি কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিত ভাবে তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বসতভিটার ওপর তাদের অধিকার খর্ব করতে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, তাদের পুরোনো বসতঘরটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় ঘর সংস্কার ও নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
এ সময় শাহানারা পারভীন অভিযোগ করেন, প্রায় তিন বছর আগে বেনাদনা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ সরদারের ছেলে তৌফিক রহমান জমি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে অগ্রিম ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। অর্থ গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে একটি ব্যাংক চেক প্রদান করা হলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বারবার টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করা হয়। সর্বশেষ পাওনা টাকা দাবি করতে গেলে তাকে হুমকি ও অশোভন আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে। একই সঙ্গে তৌফিক রহমানের সহযোগী ও ভাড়াটিয়া হিসেবে পরিচিত শংকরপুর গ্রামের আলমগীর তরফদার বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি এবং বসতভিটা জবর দখলের চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত এ বিরোধের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, বসতভিটার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এ সময় তারা আরও জানান, একই ঘটনায় এর আগে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান প্রত্যাশা করেন ভুক্তভোগীরা।