এই ডায়েরিতে আমার সব কিছু লেখা আছে—তারা আমার সঙ্গে কী করছে। আমার শুধু একটাই অনুরোধ থাকবে, আপনারা এই জিনিসটা মানুষকে দেখাইবেন। আমার ছবিটা দেখাইবেন। ছেলে-মেয়ে যেন দেখতে পায় যে তার বাপ কী অবস্থায় আছে।’এই টাকা-পয়সাটাই হলো আমার জীবনের কাল। ওনাদের ঘাড়ের ওপর (বৃদ্ধাশ্রমে) আমারে উঠাই দিয়ে গেছে। আজ পর্যন্ত দেখতে আসে নাই। খোঁজটাও নেয় না—দেখা তো দূরের কথা। এইটা কী ধরনের ছেলে? এরা অশিক্ষিত হইলেও এককথা। আমার মেয়েও কি অশিক্ষিত—যে মেয়েরে আমি পুতুলের মতো রাখছি? আমি কি তাদের কাছে টাকা-পয়সা চাইছি? কিচ্ছু চাইনি, একটু ভালোবাসা চাইছি। যাইহোক, এইটা আমার ভাগ্যে আছে।’নিজে একজন রেমিট্যান্সযোদ্ধা ছিলেন। সেই বর্ণনা দিয়ে বৃদ্ধ বাবা বলেন, ‘আমার জীবনে আমি বহুত বিদেশ করছি, বহুত টাকা কামাইছি, বহুত টাকা খরচও করছি। দুই দেশে ছিলাম। আমি ১৯৯৫ থেকে সৌদি আরবে ছিলাম ২০১৬ সাল পর্যন্ত। যখন বস্তা ভরি ভরি টাকা দিছিলাম, তখন সব ঠিক আছিল। ছেলে ঠিক আছিল, মেয়ে ঠিক আছিল—সব ঠিক আছিল।’আমার একটা এফডি (ফিক্সড ডিপোজিট) আছিল। আমার ছোট ছেলেটা আমেরিকান এম্বাসিতে চাকরি করে। এ ছিল চোখের মণি। আমি সাদা দিলে আমার ছেলে আমার টাকা পাইবে না কে পাইবে, এরে করে দিছি। টাকাগুলা উঠাই নিয়ে যে গেছে, আজ পর্যন্ত সে আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করে না, কোনো যোগাযোগ নাই। আমার মেয়ের কাছে আমার টাকা ছিল ২০ লাখ টাকা। এই টাকাটা আমাকে আর দেয় নাই। আজ পর্যন্ত ফেরত দেয় নাই।’এখন আমি আপনাদের কাছে এবং আইনের কাছে একটা ডায়েরি দিয়ে যাব। এ ডায়েরিটা আপনারা থানায় পৌঁছায় দেবেন। আপনাদের দায়িত্ব এটা। এই ডায়েরিতে আমার সব কিছু লেখা আছে—তারা আমার সাথে কী করছে।’‘যেই কয় দিন বাঁচি থাকি, এই আমি এইখানে (বৃদ্ধাশ্রমে) থাকমু। আমার ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন কাউকেই যেন আমার লাশ ছুঁইতে না দেয়। ছোঁয়ার কারো কোনো অধিকার নেই। একমাত্র এইখানের মানুষেরই আছে—আমার লাশ ছোঁয়ার অধিকার।’আমার সন্তানদের আমি এইটাই বলব যে আমার সাথে তোমরা যারা যা করছো, এইটার ফল তোমরা পাইবা। আমি দিল থেকে বলি রাখছি—এইটার ফল আল্লাহ তাআলা তোমাগোরে দেবেন—একদিন না একদিন দেবেন। এইটার ফল তোমরা ভোগ করতে পারবা। আমারে তো উনারা (বৃদ্ধাশ্রম) জায়গা দিছে, চাইট্টা খাবার দিছে, খাকার জায়গা দিছে—এদের (সন্তানদের) আল্লাহ যেন এটাও না দেয়। বিশেষ করে আমার মেয়েকে যেন না দেয়।’