শেখ মারুফ হোসেন, বাগেরহাট থেকে :
বাগেরহাটের শরণখোলায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের ওপর সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) বিকেলে শরণখোলা উপজেলার ০১ নং ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাগেরহাট জেলা পুলিশের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর কারিগরি সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ‘Prevention and Response to Gender-based Violence Against Women and Girls (PREVAIL)’ প্রকল্পের আওতায় নারী ও মেয়েশিশুদের প্রতি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (GBV) প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
শরণখোলা থানার ওসি (ইনভেস্টিগেশন) মিলন কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাগেরহাট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: আবু রাসেল।
প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সমাজের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বলেন, “দারিদ্র্য, মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, ইভটিজিং এবং বাল্যবিবাহের মতো অভিশাপগুলো সমাজকে অস্থির করে তুলছে। এসব অপরাধ নির্মূলে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি মানুষের ভালো মনমানসিকতা অর্জন এবং সৎ মানুষ হওয়া অপরিহার্য। ”
তিনি উপস্থিত সকলকে যে-কোনো বিপদে তাৎক্ষণিক জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে কল করে পুলিশের সহায়তা গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেবল আইনই যথেষ্ট নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।” এছাড়া থানাগুলোতে থাকা বিশেষ সার্ভিস ডেস্কের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের দ্রুত আইনি সহায়তা প্রদানে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর ফিল্ড অফিসার ডা: নূর-ই-আলম সিদ্দীকী বলেন, “আমাদের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা সম্পূর্ণ কমিয়ে আনা এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করা।”
তিনি তার বক্তব্যে তৃণমূল পর্যায়ে সেবার প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আরও বলেন, “আমরা কেবল প্রকল্পের লক্ষ্য নির্ধারণ করেই ক্ষান্ত হতে চাই না, বরং কমিউনিটি পর্যায়ে বিভিন্ন সেবাদান কার্যক্রম এবং সচেতনতামূলক উদ্যোগগুলো এমনভাবে কার্যকর করতে চাই, যাতে এর সুফল সমাজের একেবারে শেষ প্রান্তে থাকা মানুষটির কাছে পৌঁছায়। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সচেতনতাই পারে একটি নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে।”
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় নেতা, যুব প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা সমাজের অসহায় নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। যে-কোনো ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে, তা চেপে না রেখে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং বহুমাত্রিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। সবশেষে, যে-কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়ানো এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানের মধ্য দিয়ে এই সচেতনতা সভার সমাপ্তি ঘটে।
