Monday, 20th July 2026

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
ছুটির দিনে ধসে পড়ল বিদ্যালয়ের ভবন, বড় দূর্ঘটনা থেকে বাঁচলো শিক্ষার্থীরা
ছুটির দিনে ধসে পড়ল বিদ্যালয়ের ভবন, বড় দূর্ঘটনা থেকে বাঁচলো শিক্ষার্থীরা

ছুটির দিনে ধসে পড়ল বিদ্যালয়ের ভবন, বড় দূর্ঘটনা থেকে বাঁচলো শিক্ষার্থীরা

বিএম আলামিন ইসলাম, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার কয়রা উপজেলার গৌবন্দুপুর এলাকায় অবস্থিত গাজী আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ-এর একটি ভবনের অংশ ছুটির দিনে হঠাৎ ধসে পড়েছে। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা কর্মচারী আহত হননি। তবে স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি বিদ্যালয় চলাকালে ঘটলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধসে পড়া ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার ( ১৭ জুলাই) বিকালে ভবনের একটি অংশ বিকট শব্দে ধসে পড়ে। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ রেখে দ্রুত ভবনটি অপসারণ এবং নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার জানান, শুক্রবার ছুটির দিনে ভবনের বড় অংশ ধসে পড়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক গোলাম রসুল বলেন, ‘শুক্রবার ভবন ভেঙে পড়েছে, সেদিন স্কুল বন্ধ ছিল। ক্লাস চলাকালে ভবনটি ধসে পড়লে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এখন আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি।’

কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভবন ধসে পড়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে।’

খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য চলতি বছর আবার দরপত্র (টেন্ডার) সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি মূলত ২০১৭–১৮ অর্থবছরে অনুমোদিত হলেও এলাকার মাটির স্তর (সয়েল লেয়ার)–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নকশা ও কারিগরি বিষয় একাধিকবার পুনর্বিবেচনা করতে হয়েছে। সয়েল টেস্টের জটিলতা কাটিয়ে আবারও টেন্ডার সম্পন্ন করা হয়েছে।

খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ধনঞ্জয় মিস্ত্রী জানান, প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে চারতলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা যাবে। পাশাপাশি পাঠদান সচল রাখতে দুই ইউনিট টিনশেড ভবন নির্মাণেরও বরাদ্দ রয়েছে। তবে এখনো কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) জারি হয়নি। কার্যাদেশ জারি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে নির্মাণকাজ শুরু হবে। দরপত্রে ঠিকাদারের দেওয়া দর অনুযায়ী প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।