তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা রনজিৎ দেওয়ান।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দপুর মৌজায় অবস্থিত ১৩ শতক পৈতৃক সম্পত্তি রনজিৎ দেওয়ান ও তাঁর ভাই সুকুমার দেওয়ান দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি দেখানোসহ নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে রনজিৎ দেওয়ান আরও উল্লেখ করেন, গত ১৮ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে মৃত গণি কাজীর ছেলে কাজী ইকরামুল ইসলাম এবং তাঁর ছেলে কাজী ইলিয়াসসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তিতে প্রবেশ করেন। পরে তারা সেখানে জোরপূর্বক ঘেরাবেড়া দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় জমিতে ঘেরাবেড়া দেওয়ার কাজে বাধা দিলে অভিযুক্তরা অভিযোগকারী ও তাঁর স্বজনদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধর ও গুরুতর ক্ষতির হুমকি দেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এমনকি বাধা অব্যাহত রাখলে মারপিট ও খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি।
ঘটনার সময় মো. তুহিন, মোছা. ফতেমা খাতুন ও বাবু রামপ্রসাদসহ স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন বা ঘটনা সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রনজিৎ দেওয়ানের আশঙ্কা, জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এতে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগে উল্লিখিত সম্পত্তিটি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানার গোবিন্দপুর (বড়) মৌজার জে.এল. নং-১৬৮, খতিয়ান নং-৩৯৯ এবং দাগ নং-২৬৩-এর অন্তর্ভুক্ত। ওই দাগে থাকা মোট ২৬ শতক জমির মধ্যে ১৩ শতক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাজী ইকরামুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যবহৃত ০১৯১২০৮০৯১৯ নম্বরের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, অভিযোগ হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
