কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জের জয়পত্রকাটি ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) ফয়েজ আহমেদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন, খাস জমি ইজারা ও দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রকাশিত সংবাদটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে নায়েব ফয়েজ আহমেদ বলেন, জয়পত্রকাটি ভূমি অফিসটি কৃষ্ণনগর ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ভূমি কার্যালয় হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সম্প্রতি তাঁকে ও পিয়ন আহম্মদ আলীকে জড়িয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সেটি তাঁর চাকুরী জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দীর্ঘদিনের সুনাম নষ্ট করার জন্য করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি সরকারি বিধি-বিধান মেনে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কোনো সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ, ফাইল আটকে রেখে অর্থ আদায় কিংবা দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ নেওয়ার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নিজ ও বেনামে প্রায় ২০ বিঘা জমি ক্রয় এবং অবৈধ ভাবে বিপুল পরিমাণ খাসজমি ইজারা নিয়ে মাছের প্রকল্প গড়ে তোলার অভিযোগও অস্বীকার করেন ফয়েজ আহমেদ। তাঁর ভাষ্য, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তাঁর আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র যাচাই করলেই প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগসাজশ করে খাসজমি দখল এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ অসত্য দাবি করে বলেন, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
পিয়ন আহম্মদ আলীর মাধ্যমে ঘুষ আদায়ের অভিযোগের বিষয়েও নায়েব ফয়েজ বলেন, ‘আহম্মদ আলীর মাধ্যমে আমার কথিত ঘুষ আদায়ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে কোনো অনিয়ম করে থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির। সেটির সঙ্গে আমাকে জড়ানো অনভিপ্রেত।’
তিনি আরও বলেন, ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে উপস্থাপন করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। তদন্তে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও তাঁর আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।
নায়েব ফয়েজ আহমেদ সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা উচিত।
প্রকাশিত সংবাদের কারণে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান ফয়েজ আহমেদ।
