Friday, 9th October 2026

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
কলারোয়ার সলিমপুর হাজী নাছির উদ্দীন কলেজের হারানো গৌরব ফেরাতে ঐক্যবদ্ধ গ্রামবাসী
কলারোয়ার সলিমপুর হাজী নাছির উদ্দীন কলেজের হারানো গৌরব ফেরাতে ঐক্যবদ্ধ গ্রামবাসী

কলারোয়ার সলিমপুর হাজী নাছির উদ্দীন কলেজের হারানো গৌরব ফেরাতে ঐক্যবদ্ধ গ্রামবাসী

ডেস্ক নিউজ:

কলারোয়ার সলিমপুর গ্রামের কৃতী সন্তান ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এনাম হকের নিজস্ব অর্থ, শ্রম ও মেধায় ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হাজী নাছির উদ্দীন কলেজ। গ্রামের ছেলে-মেয়েদের, বিশেষ করে নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং আশপাশের এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসময় এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে দীর্ঘদিনের নানা বিরোধ ও দূরত্বের কারণে কলেজটির স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এবার অতীতের বিভেদ ভুলে প্রতিষ্ঠানটির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন গ্রামবাসী ও তরুণ প্রজন্ম।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একসময় প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর ছিল হাজী নাছির উদ্দীন কলেজ। শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় পুরস্কারও অর্জন করে। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন বিরোধ ও পারস্পরিক দূরত্বের কারণে কলেজটির অগ্রযাত্রায় স্থবিরতা দেখা দেয়। দীর্ঘ ১৪ বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি বিষয়। এমনকি নিজ গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীও এখন এ কলেজে ভর্তি হতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছেন সলিমপুরের সচেতন মানুষ ও তরুণ প্রজন্ম। তাঁদের লক্ষ্য, পারস্পরিক মতপার্থক্য দূর করে কলেজটিকে আবারও একটি মানসম্মত ও আকর্ষণীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। ইতোমধ্যে কলেজের উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনের দাবিতে একাধিক সভা, মিছিল ও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠানটির প্রতি স্থানীয় মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অতীতের ঝগড়া-বিবাদ ও বিভেদ পেছনে ফেলে সবাই সম্মিলিতভাবে কলেজটির উন্নয়নে এগিয়ে আসবেন। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বন্ধ হয়ে যাওয়া বিষয়গুলো চালুর সম্ভাবনা যাচাই এবং নতুন প্রজন্মকে এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহী করে তোলার মতো উদ্যোগকে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

তাঁদের মতে, এখন সময় বিভেদ নয়, ঐক্যের; অভিযোগ নয়, সমাধানের। ব্যক্তিগত বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার অধিকার ও এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

হাজী নাছির উদ্দীন কলেজ কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি সলিমপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, আবেগ ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান। সম্মিলিত উদ্যোগ, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে কলেজটিকে আবারও আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে আশাবাদী স্থানীয়রা।

সলিমপুরের মানুষের ঐক্য, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকারই হতে পারে হাজী নাছির উদ্দীন কলেজের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় শক্তি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।