Wednesday, 14th October 2026

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
আশাশুনিতে ব্যবসায়িক লেনদেনের ৯৩ লাখ টাকা ফেরত পেতে ব্যবসায়ী গফুরের আকুতি
আশাশুনিতে ব্যবসায়িক লেনদেনের ৯৩ লাখ টাকা ফেরত পেতে ব্যবসায়ী গফুরের আকুতি

আশাশুনিতে ব্যবসায়িক লেনদেনের ৯৩ লাখ টাকা ফেরত পেতে ব্যবসায়ী গফুরের আকুতি

আশাশুনি প্রতিনিধি।।

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটায় ব্যবসায়িক অংশীদারের কাছে বিনিয়োগের মূলধন ও লভ্যাংশের টাকা ফেরত পেতে আকুতি জানিয়েছেন আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরদার। পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ায় নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে দাবি করে প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ব্যবসায়িক অংশীদার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য শেখ আছাফুর রহমান।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের শ্বেতপুর গ্রামের মৃত: আইনুদ্দিন সরদারের ছেলে আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরদার একসময় বুধহাটা বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। এ সময় জমি ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত জোড়দিয়া গ্রামের মৃত: শেখ রেজওয়ান আলীর ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য শেখ আছাফুর রহমানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ব্যবসায় অধিক লাভের আশায় নিজের ভিটেবাড়ি,৯২ শতক বিলান জমি,তিনটি দোকান ও ধর্মরাজের কাছে থাকা আরও চার শতক জমি বিক্রি করে ৭৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আব্দুল গফুর সরদারের দাবি,২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে তাঁদের যৌথ ব্যবসায় দুই কোটি টাকা লাভ হয়। চুক্তি অনুযায়ী লাভের অর্ধেক এক কোটি টাকা এবং মূলধন ৭৭ লাখ টাকাসহ তাঁর মোট পাওনা দাঁড়ায় এক কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে তিনি ৮৪ লাখ টাকা ফেরত পেয়েছেন। বাকি ৯৩ লাখ টাকা এখনো বুঝে পাননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়,ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রায় এক বছর আগে বিষয়টি নিয়ে সালিশ হলেও বকেয়া টাকা আদায় হয়নি বলে দাবি তাঁর। পাওনা টাকা চাইতে বারবার অংশীদারের কাছে গিয়েও সমাধান না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। নিজের সম্পদ বিক্রি করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করায় বর্তমানে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় পাওনা টাকা ফেরত পেতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ আছাফুর রহমান বলেন,তাঁদের মধ্যে হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী,আব্দুল গফুরের ১৩ লাখ টাকা পাওনা ছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ হয়েছে এবং সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি করা হয়েছে। ওই স্ট্যাম্পে সালিশকারীদের পাশাপাশি উভয় পক্ষের স্বাক্ষর রয়েছে। কিছু জমির বিক্রয়প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি,সব বিষয় স্ট্যাম্পে উল্লেখ রয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
পাওনা টাকার পরিমাণ ও সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বড় ধরনের অমিল রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও চুক্তির সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।