
নতুন সূর্য ডেস্কঃ
রাষ্ট্রপক্ষ শুনানীতে অংশ নেন বাংলাদেশের অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জী, সহকারি এটর্নি জেনারেল শাহীন মৃধা, সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক পিপি ও বর্ষীয়ান আইনজীবী অ্যাড. এসএম হায়দার আলী, সাবক পিপি অ্যাড. ওসমান গণি, সাবেক পিপি অ্যাড. তপন কুমার দাস, অ্যাড. সাবেক অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. আজাহার হোসেন, অ্যাড. শহীদুল ইসলাম পিটু, অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. সৈয়দ জিল্লুর রহমান, অ্যাড. তামিম আহমেদ সোহাগ, অ্যাড. জিকো, অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান শাহনেওয়াজ প্রমুখ।
আসামীপক্ষে শুনানীতে অংশ নেন বাংলাদেশ হাইকোর্টের অ্যাড.শাহানারা আক্তার বকুল, অ্যাড. আব্দুল মজিদ (২), অ্যাড. মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাড কামরজ্জামান ভুট্টো প্রমুখ।
মামলার কার্যক্রম শুরুতেই আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. আব্দুল মজিদ বলেন, আসামী সাবেক সাংসদ ও বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নামে এজাহার না থাকা ও পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হলেও তার অনুপস্থিতিতে এক থেকে নয় জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। তখন ওই সাক্ষীদের জেরা করা হয়নি বলে তাদেরকে জেরা করার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত এটর্ণি জেনারেল এসএম মুনির, ডেপুটি এটর্ণি জেনারেল সুদীপ চ্যাটার্জী, সহকাাির এটর্ণি জেনারেল শাহীন মৃধা বলেন, আসামী হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নাম এজাহারে তালিকাভুক্ত না থাকলেও মামলার গর্ভে তার নাম ও হামলায় তার নির্দেশনা সম্পর্ক স্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগ গঠন পর্যন্ত হাবিবুল ইসলাম হাবিব পলাতক ছিলেন। তাছাড়া ১,২ ও ৩ নং সাক্ষীকে রাষ্ট্রপক্ষ পূণরায় সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করলেও আসামীপক্ষে জেরা করতে আপত্তি জানায়। একইভাবে ৫ ও ৬ নং সাক্ষীর জেরা তারা করেছে। তাছাড়া ৩৪২ হয় যাওয়ার পর গত ৬ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রথম ধার্য দিনে তারা কোন সাক্ষীর জেরা করার ব্যাপারে কোন আবেদন জানাননি। ১৯ বছর পর আবারো মামলাটি দীর্ঘসূত্রিতা এ ধরণের গ্রহণযোগ্য বিহীন আবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের কথা শোনার পর বিচারক নথি পর্যালোচনা শেষ দুপুর ১২টার দিকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে অনুমতি দেন।
অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এসএম মুনির ও সুদীপ চ্যূাটার্জী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনায় বলেন, ২০০১ সালের নভেম্বর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। এ সময় জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটেছে। এ সময় ১০ থেকে ১৫টি জঙ্গী হামলা হয়েছে। ১০ নং সাক্ষী সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহম্মদের জবানবন্দি তুলে ধরে তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ১৯৭১ এর পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার চেষ্টা করে। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশ থাকায় ভাগ্যক্রমে তারা বেঁচে যান। তারা দেশ আসার পর ওই পরাজিত শক্তি ১৯৭৫ এর ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালের ৩০ আগষ্ট কলারোয়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়ি বহর হামলা চালায়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ২১ আগষ্ট ঢাকায় শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হলেও তিনি বেঁচে যান। তবে মারা যান আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২জন। আহত হন অন্তত ৫০ জন।
তারা আরো বলেন, ২০০২ সালের ৩০ আগষ্ট কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা ও পরবর্তীতে পুলিশ মামলা না নেওয়া, আদালতের নির্দেশে পুলিশ মামলা নিলেও ঘটনা মিথ্যা বলে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া, আদালতে না রাজি ও রিভিশন খারিজ হওয়াসহ তৎকালিন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করেন। এ ছাড়া হামলার সময় আসামীদের ব্যবহৃত বা ফেলে যাওয়া মালামাল পুলিশের উদ্ধার করে জব্দ তালিকা তৈরি করার নিয়ম থাকলেও পরিস্থিতিতির ভয়াবহতায় ২০১৪ সালে ভিকটিম ও সাক্ষীদের কাছ থেকে মালামাল জব্দ করে তালিকা করতে হয়েছে। ঘটনার দিন কলারোযা থানা বিএনপি অফিসের সামনে প্রধান রাস্তায় আড় করে দেওয়া যাত্রীবাহি বাসর চালক হিসেবে ১০ নং সাক্ষীর বিবিসির সাক্ষাৎকারের কথা তুলে ধরেন তারা। বর্তমান সরকারের আমলে অভিযোগপত্র রকিব নামের এক নাবালক আসামী শিশু আইনে বিচার চেয়ে যেভাবে সম্পূর্ণ মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতে স্থগিত করেছে তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তবে তারা গর্বের সঙ্গে বলেন, ব