বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
ঠাকুরগাঁওতে চিকিৎসায় অবহেলা শিশু মৃত্যুর : হাসপাতাল ভাঙচুর
ঠাকুরগাঁওতে চিকিৎসায় অবহেলা শিশু মৃত্যুর : হাসপাতাল ভাঙচুর

ঠাকুরগাঁওতে চিকিৎসায় অবহেলা শিশু মৃত্যুর : হাসপাতাল ভাঙচুর

নিউজ ডেস্কঃ ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের কলেজ পাড়া মহল্লার অনিক (১২) নামে এক শিশু নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে হাবুডুবু খায়। সে পৌর শহরের কলেজ পাড়া মহল্লার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। মোহাম্মদ আলী ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অফিস সহকারী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার  দুপুরে অনিক বাড়ির পাশে নদীতে গোসল করতে নামলে সে পানিতে হাবুডুবু খায়। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক না দেখেই মৃত ঘোষণঅ করে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরে শিশুটিকে বাড়ি নেওয়ার পথে তার শরীর গরম হয়ে মুখ দিয়ে পানি বের হলে শিশুটিকে স্থানীয় ডায়াবেটিকস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুনরায় সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা দ্বিতীয়বার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় স্বজনরা সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে হাসপাতাল ঘেরাও, ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করে। 

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিব এসে অনিকের স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলা ও স্বাস্থ্য সহকারী বাবুল হোসেনের হটকারী সিদ্ধান্তের কথা আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে জানালে তিনি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা মৃত্যু সনদ নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, আমরা প্রথমে অনিককে হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য সহকারী বাবুল হোসেন বলেন, ‘আমার ১২ বছরের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাচ্চাটি মারা গেছে তার ইসিজি লাগবে না।’

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ইসিজির কোনও যন্ত্র নেই। বাইরে থেকে ভাড়া করে ইসিজি মেশিন নিয়ে আসা হলেও মেশিন পরিচালনাকারী পাওয়া যায়নি। অবহেলায় এভাবে আর কত অনিককে হারাবো আমরা?

এ বিষয়ে হাসপাতালের স্বাস্থ্য সহকারী বাবুল হোসেন জানান, ওই সময় ডিউটিতে থাকা চিকিৎসক ডা. সাবিনা শিশুটিকে দেখে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি কিছু বলেননি বলে জানান। 

এ ব্যাপারে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,  ওই সময় ডা. লিসা ও ডা. সাবিনা ডিউটিতে ছিলেন। রোগীর স্বজননেরা লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।হাসপাতালে কোনও ইসিজি মেশিন নেই স্বীকার করে তিনি জানান এ কারণেই বাইরে থেকে হয়তো ইসিজি মেশিন আনা হয়েছিল।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।