মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
চুয়াডাঙ্গায় চাঁদা দিতে না পারায় সরকারি কবরস্থানে দাফন হয়নি লাশের
চুয়াডাঙ্গায় চাঁদা দিতে না পারায় সরকারি কবরস্থানে দাফন হয়নি লাশের

চুয়াডাঙ্গায় চাঁদা দিতে না পারায় সরকারি কবরস্থানে দাফন হয়নি লাশের

জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা:

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে সরকারি কবরস্থানে চাঁদা দিতে না পারায় দাফন করতে দেয়া হয়নি গ্রামের এক বৃদ্ধ মহিলার লাশ।

বুধবার বিকালে খেজুরতলা গ্রামের মৃত বরকত আলীর স্ত্রী মদিনা খাতুন (৬০) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। রাত ৯ টার দিকে গ্রামের সরকারি কবরস্থানে লাশের দাফন করতে গেলে কবরস্থান কমিটির এক সদস্য লাশ দাফনে বাধা দেয়।

মৃত মদিনা খাতুনের জামাই রিপন আলি অভিযোগ করে বলেন, আমার শাশুড়ির কোন ছেলে সন্তান না থাকায় আমি শ্বশুর বাড়িতে ঘর জামাই থাকি। বুধবার বিকালে আমার শাশুড়ি মারা গেলে কবরস্থান কমিটির সভাপতির অনুমতি নিয়ে স্থানীয় লোকজনের সাথে করে সরকারি কবরস্থানে কবর খুড়তে যাই ও কবর খুড়ে লাশের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। রাত ৯ টায় কবর কমিটির সদস্য জামিরুল ইসলাম কবর খুড়তে নিষেধ করে। একপর্যায়ে আমরা কবরে মাটি ভরাট করে ফিরে আসি।

তিনি আরো বলেন কবরস্থানের জমি ক্রয়ের সময় চাঁদা না দিতে পারায় দাফন কাজে বাধা প্রদান করেছে।

ঘটনাটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। অনেকেই এই ঘটনার ধিক্কার জানাতে থাকে। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে গ্রামের ক্যানেল এর পাশে রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তির জমিতে কবর খুঁড়ে দাফন সম্পন্ন করে গ্রামবাসী।

এ ব্যাপারে গ্রামবাসী জানায় , সরকারি কবরস্থানে মৃত ব্যক্তির দাফন কাজের বাধার ঘটনা আসলেই মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। এই ঘটনার নিন্দা জানান তারা।

এ ব্যাপারে কবরস্থান কমিটির সদস্য জামিরুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে গ্রামে পক্ষ-বিপক্ষের সৃষ্টি হয়। আমি কাউকে কবর করতে নিষেধ করিনি এটা গভীর ষড়যন্ত্র।

কবরস্থান কমিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন, গ্রামের লোকজনদের কাছে থেকে টাকা তুলে কবরস্থানের জমি ক্রয় করা হয়েছে। গ্রামের প্রতিটা লোকের মৃতদেহ সেখানে দাফনের অনুমতি রয়েছে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।