
এস এম জাকির হোসেনঃ
সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভা ১৯৯০ সালের ১১ মার্চ হেলাতলা, কয়লা ও লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে কলারোয়া পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। কলারোয়া পৌরসভার মোট ভোটার প্রায় বিশ হাজার। জনসংখ্যা ৩২ হাজারের বেশি। পৌরসভায় সরকারি কলেজ আছে একটি ও একটি সদ্য সরকারি ঘোষনা করা হয়েছে একটি হাইস্কুল। তিনটি বে-সরকারি কলেজ, পাঁচটি বে-সরকারি হাইস্কুল, তিনটি মাদ্রাসা ও ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে।
২০০৪ সালের ২৭ মে ‘গ’ থেকে এটিকে ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভা করা হয়। ২০১০ ও ২০১৫ সালে দুই মেয়াদে গাজী আক্তারুল ইসলাম মেয়র নির্বাচিত হলেও বিরোধী দলীয় হওয়ায় উন্নয়নে কোন প্রত্যাশায় পূরণ করতে পারেনি পৌরবাসীর। দু-বারই বরখাস্ত হয়ে মেয়র হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেন নাই। গত দুদিন সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, পৌরসভা হলেও পৌর সুবিধাগুলো এখানে মেলে না। কোথাও পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এ কারণে বর্ষায় বা বৃষ্টি হলেই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। রাস্তাগুলো সরু ও বেহাল। অধিকাংশ ওয়ার্ডে নেই কোন ময়লা ফেলার ডাষ্টবিন ফলে পুরো পৌরসভা পরিনত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। পৌরসভার নেই অনেক সুবিধাই। এ জন্য মানুষের দুর্দশার শেষ নেই। সাতক্ষীরা থেকে যশোর- ঢাকা মহাসড়ক ধরে ১৬ কিলোমিটার এলে কলারোয়া পৌরসভা শুরু। কলারোয়ায় ২৪ টি সরকারি দপ্তরসহ থানা, হাসপাতাল এবং সরকারি কাজে আসতে হলে বেশীরভাগ লোকজনকে হাসপাতাল সড়ক এবং সরসকাটি সড়কের বিকল্প নেই। পৌরসভার বাসিন্দা ও শিক্ষক মোস্তফা হোসেন বলেন, ‘এখানকার রাস্তাগুলো এত বেহাল, যেকোনো অসুস্থ মানুষ বা গর্ভবতী নারীর চলাফেরা করা ভয়াবহ কষ্টের। বিভিন্ন জায়গায় এত বেশি গর্ত যে বৃষ্টির সময় এগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় যানবাহন উল্টে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। মুরারীকাঠি ঢালি পাড়া, খাঁ পাড়া পড়েছে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এখানকার রাস্তা এতটাই জরাজীর্ণ যে দেখে মনেই হয় না যে এটা কোন পৌরসভার রাস্তা। পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তায় নেই কোন সড়কবাতি । পৌরসভার মধ্যে সামান্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও ড্রেনের উপর কোন ঢাকনা না থাকায় ময়লা আর্বজনায় ভরে সেগুলো দিয়ে পানি নিষ্কাসন হয় না।
এ এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মনিরুল বলেন, ‘পৌরসভা হওয়ার পর ভেবেছিলাম জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাব। কিন্তু দিনকে দিন সমস্যা বাড়ছে। এমন পৌরসভার বাসিন্দা হয়ে লাভ কী?’ তবে পৌরসভার এসব সমস্যার জন্য অর্থ সংকটকে দায়ী করলেন কলারোয়া পৌরসভার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্সিলর। পৌরসভার সচিব তুুুুষার কান্তি বলেন, পৌরসভার আয় ১৫ লাখ টাকা। এই অর্থ দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিয়ে কিছু টাকা থাকে যেটা অতি সামান্য। এ কারণে নাগরিক সুবিধাগুলো দেওয়া কষ্ট। যাই হোক, পৌরসভার একটি মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পৌরসদরে বিশুদ্ধ পানির জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় ৮ কোটি টাকা বরাদ্দে গত জুন মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারের গাফিলাতির কারনে এখনও সু-পানির ব্যবস্থা পৌরবাসী পায়নি। রাস্তাগুলো ঠিক করার কাজও শুরু হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুলের কাছে জানতে চাইলে, তিনি জানান ‘আমি ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করেছি। ৫ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলছে। এগুলো শেষ হলে পৌরবাসী অনেক সুবিধা পাবে।