বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
ভর দুপুরে অভিনব কায়দায় নারীর গহনা নিয়ে গেল অজ্ঞান পার্টি
ভর দুপুরে অভিনব কায়দায় নারীর গহনা নিয়ে গেল অজ্ঞান পার্টি

ভর দুপুরে অভিনব কায়দায় নারীর গহনা নিয়ে গেল অজ্ঞান পার্টি

নতুন সূর্য ডেস্কঃ

ভর দুপুরে শেরপুর শহরের ব্যস্ততম এলাকা গোয়ালপট্টরিতে অজ্ঞান পার্টি খপ্পরে পড়ে লক্ষাধিক টাকার গহনা হারালেন এক গৃহবধূ। অভিনব এই ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারী) শহরের সাপ্তাহিক বড় হাটবারের দিন। 

ভিকটিম বিলকিছ বেগম মধ্য বয়সি একজন গৃহবধূ। ওই গৃহবধূর স্বামী পিআর মো. রহুল ঝিনাইগাতি মহিলা কলেজের ইংরেজি শিক্ষক। এ নিয়ে শেরপুর সদর থানায় মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের সিসি ক্যামেরায় অনেকটা চিহ্নিত করা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ভিকটিমের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় তিনি শহরের সজবরখিলাস্থ বাসা থেকে বাজারে আসছিলেন বোরকা কিনতে। শহরের নয়ানিবাজার গোয়ালপট্টরিতে হেঁটে বোরকার দোকান খুঁজতে ছিলেন ওই নারী। এসময় একজন ২২/২৩ বছরের যুবক তার কাছে মায়ের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কেঁদে কেঁদে সাহায্যের আবেদন করে। তিনি ২০ টাকা দিলে যুবক আরও কিছু টাকার আবেদন করে মায়ের কষ্টের কথা শুনতে বলেন। ভিকটিম কাজ আছে বলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে চাইলে ওই যুবক পকেট থেকে রুমাল বের করে ওই নারীর মুখের সামনে ঝাড়া দেয়। এরপর তার শরীর প্রচ্ছন্ন খারাপ হলে তাকে ওই যুবক ধরে বাজারের ভিতর দিয়ে অন্তত কোয়াটার কিলোমিটার হাঁটিয়ে একটি গলিতে নিয়ে যায়। এসময় লোকজন ওই নারীর কি হয়েছে জানতে চাইলে ওই যুবক তাকে নিজের বোন পরিচয় দেয় এবং অসুস্থ বলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন। রাস্তায় ওই যুবকের সাথে যোগদেয় আরও দুই যুবক। গলিতে নিয়ে ২/৩ মিনিটের মধ্যে ওই নারীর গলায় থাকা সোনার চেইন, হাতের বালা, কানের রিং খুলে নিয়ে চম্পট দেয়। 

ভিকটিম জানান, তারা সোনার জিনিসগুলো খুলে নিচ্ছে টের পাচ্ছেন কিন্ত কিছু বলার কোন শক্তি তার ছিল না। শুধু অনুভব করতে পেরেছেন। ১০ মিনিট পরে তিনি কিছুটা স্বাভাবিক হলে শুরু করেন চিৎকার। মানুষজন এসে ওই যুবকদের খুঁজতে থাকে কিন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি তাদের। খবর পেয়েই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই বাজারের যত সিসি ক্যামেরা আছে তার সব ফুটেজ গ্রহণ করে। অন্তত তিনটি ক্যামেরায় ওই ছিনতাইকারীর সকল দৃশ্য ধরা পড়ে। 

ওই গৃহবধূর স্বামী রহুল আমিন জানিয়েছেন, পুলিশ সাথে সাথে ব্যবস্থা নিয়েছে। সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজে ওই দুস্কৃতিকারীকে তার স্ত্রী শনাক্ত করতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিষয়টিকে আশ্চর্যজনক ও ফিল্মিস্টাইল বলছে। 

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনছুর আহমদ জানান, গুরুত্বসহ বিষয়টি দেখা হচ্ছে। ফুটেজ পাওয়া গেছে। আমার একটু যাচাই বাছাই করছি। আশা করছি অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যাবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।