মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
কলারোয়া সীমান্তের অবৈধ পথ দিয়ে ঢুকছে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পন্য
কলারোয়া সীমান্তের অবৈধ পথ দিয়ে ঢুকছে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পন্য

কলারোয়া সীমান্তের অবৈধ পথ দিয়ে ঢুকছে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পন্য

জাকির হোসেন:

রোজা ও আসন্ন ঈদের বাজার দখলে প্রতিদিন রাতের আধারে কলারোয়া সীমান্ত পথে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পন্য পাচার হয়ে আসছে। ফলে দেশীয় পন্য অবিক্রিত হয়ে পড়ায় সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। সীমান্তবাসির উদ্ধৃতি দিয়ে একাধিক সুত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে আসন্ন ঈদের বাজার দখল করার জন্য গভীর রাতে সীমান্তের রাস্তাঘাট জনশূন্য হলে ভারতীয় পন্য পাচারের ঢল নামে। সোনাই নদী ও ইছামতি নদী সীমান্তে এসব পন্য বাংলাদেশে আনার জন্য অসংখ্য নৌকা নিয়োজিত রয়েছে। এজন্য সীমান্তের কেঁড়াগাছি চারাবাড়ি ঘাট, কেঁড়াগাছি কুটিবাড়ি ঘাট, কেঁড়াগাছি রথখোলা ঘাট, কেঁড়াগাছি গাড়াখালী ঘাট, দক্ষিণ ভাদিয়ালী ঘাট, ভাদিয়ালী তেতুলতলা ঘাট, উত্তর ভাদিয়ালী কামারবাড়ি ঘাট, রাজপুর খা-বাগানের ঘাট, চান্দা স্লুইচ গেট ঘাট, বড়ালী স্লুইচ গেট ঘাট, উত্তর বড়ালী ঘাট, হিজলদী ভদ্রশাল ঘাট, হিজলদী শিশুতলা ঘাট, সুলতানপুর ঘাট, সুলতানপুর তালসারি ঘাট, গোয়ালপাড়া ঘাট, চান্দুড়িয়া ঘাট, কাদপুর ঘাট দিয়ে ভারতীয় পন্য প্রবেশ করছে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এসব ঘাট দিয়ে রোজা এবং আসন্ন ঈদের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী আসছে। এরমধ্যে ছোলা, বুট, জিরা, মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচী, আঙ্গুর, আপেল, মালটা, ন্যাশপতি, বেদানা, কিসমিস, শার্ট পিস, প্যাণ্ট পিস, রকমারী পাজ্ঞাবী, থ্রিপিস, টুপিস, জর্জেট শাড়ী, ওড়না, গেজ্ঞী, জাঙ্গিয়া, শিশু পোষাক, বালিশের কভার, বেডশীট, তোয়ালে, সীট কাপড়, উন্নতমানের বোম্বে প্রিণ্ট শাড়ী, সাউথ ই-িয়ান সিল্ক, কাতান, বেনারসী, আতর, সেণ্ট, বডি লোশন, সেভিং লোশন, সেভিং ক্রীম, বিভিন্ন প্রকারের ইমিটেশন অলঙ্কার, হাড়ি, কড়াই, ষ্টীলের প্লেট, গ্লাস, বাটি, গামলা, বালতি, কড়ির কাপ, পিরিচ, প্লেট, গামলা, ডিনার সেট, শিশু খেলনা, সেনেটারী ব্যাসিন, পাইপ, প্যান, বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেণ্ট, এলইডি বাল্ব, ঘর ওয়ারিং সামগ্রী স্লুইচ, সিলিং রোজ, সকেট,জুতা, রকমারী স্যা-েল অন্যতম। পন্য গুলো সাইকেল, মটর সাইকেল, ইঞ্জিন ভ্যান, নসিমন বা আলমসাধু ভরে বাঁগআচাড়া, বাঁকড়া, কলারোয়া, ঝাউডাঙ্গা, কেশবপুর, রাজগঞ্জ, মনিরামপুর, যশোর, নওয়াপাড়া, পাটকেলঘাটা ও চুকনগরে প্রবেশ করে। এরপর এসব পন্য চাহিদা মত খুলনা, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন বাজার সহ রাজধানীতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে সুত্র জানায়। সুত্র মতে, সীমান্তবর্তী সোনাবাড়িয়া, গয়ড়া, বালিয়াডাঙ্গা, খোর্দ্দ সরসকাটি বাজারে ভারতীয় জুতা, স্যা-েল ও কাপড় বিক্রির পৃথক দোকান খোলা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বৈধ পথে ভারতীয় পন্য সামগ্রী আনার দাবী করে। তবে বৈধ পথে আমদানীর বহু গুণ চোরাই পথে আনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়। এভাবে দক্ষিণাঞ্চলে হাট বাজার এখন সস্তা দামের চাকচিক্যময় ভারতীয় পন্যে সয়লব হয়ে গেছে। এতে দেশীয় পন্য অবিক্রিত হয়ে পড়ছে। ফলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। সীমান্তের কতিপয় অসাধু জনপ্রতিনিধি এবং প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ বখরা নিয়ে চোরাচালানে সহায়তা করছে এবং অসাধু সীমান্তরক্ষীরা টাকার বিনিময়ে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে সীমান্ত সুত্রগুলো জানায়। 

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।