
নতুন সূর্য ডেস্কঃ
অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৯ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার(২৫ জানুয়ারি) থেকে সপ্তাহ ব্যাপী মধুমেলা শুরু হচ্ছে সাগরদাঁড়িতে।
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের জনক মধু কবির জন্মস্থান যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে উৎসবে মেতে উঠবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। বুধবার থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা উপলক্ষে কবির জন্মভূমির স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদ, জমিদার বাড়ির আম্রকানন, বুড়োকাঠ বাদাম গাছ তলা, বিদায় ঘাটসহ মধুপল্লী হাতছানি দিয়ে ডাকছে মধু ভক্তদের। মধুভক্ত লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে মুখরিত হবে সাগরদাঁড়ির চারপাশ। বর্ণিল সাজে সেজেছে সাগরদাঁড়ি। সপ্তাহ ব্যাপী মেলা উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচী। ইতিমধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোরের কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামের জমিদার দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা জমিদার রাজনারায়ণ দত্ত আর মা জাহ্নবী দেবী।
১৮৫৩ সালে মধুসূদন দত্ত খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। তখন থেকে তার নামের সঙ্গে ‘মাইকেল’ যুক্ত হয়। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত মৃত্যুবরণ করেন।
এবারের মধুমেলায় দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য মধুমঞ্চে কেশবপুর ও যশোরের শিল্পীগোষ্ঠীর পাশাপাশি দেশবরেণ্য কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি প্যান্ডেলে সার্কাস, যাদু প্রদর্শনী ও মৃত্যুকূপ থাকছে। রয়েছে শিশুদের জন্য নাগরদোলাসহ বিভিন্ন আয়োজন। এছাড়াও থাকছে কুটির শিল্পসহ গ্রামীণ পসরা। এবারের মধুমেলার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে কৃষিমেলা।
করোনার কারণে গত দুই বছর সাগরদাঁড়িতে মধুমেলা না হওয়ায় এবারের মেলা ঘিরে একধরনের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। যশোর শহরসহ কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মধুমেলার ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে।
যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২৫ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী এ মধুমেলার উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মধুমেলা উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব এমএম আরাফাত হোসেন বলেন, সাগরদাঁড়িতে মধুমেলা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপনের লক্ষে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এবারও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকেল মধুসূদন পদক দেওয়া হবে। আশা করছি, সফল ও সুন্দরভাবে ঐতিহ্যবাহী মধুমেলা সম্পন্ন হবে।’