
লেখাঃ আব্দুস সালেক সুফী
সিনিয়র ক্রীড়া বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানী পরামর্শক
আইসিসির পরিকল্পনায় বিশ্বকাপ ২০২৩ তে অংশগ্রহণকারী ১০ টি দল প্রতীটিকেই একে ওপরের বিরুদ্ধে খেলতে হচ্ছে বিভিন্ন ভেন্যুতে ,বিভিন্ন উইকেটে। সবদল ইতিমধ্যে ৯ খেলার ৬ টি করে খেলে ফেলেছে। প্রত্যাশা মত হট ফেভারিট স্বাগতিক ভারত ৬ টি ম্যাচের প্রতিটি জিতে আছে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। একটি বেশি ম্যাচ ৭ টি খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা আছে সবার উপরে। আজ খেলার পর হয়তো ভারত ফিরবে শীর্ষ স্থানে। ৫ বারের অস্ট্রেলিয়া ৬ খেলার ৪টি জিতে এখন তালিকার তিন নম্বরে। ভারত ,দক্ষিণ আফ্রিকা ,অস্ট্রেলিযার সেমিফাইনাল খেলা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে। চতুর্থ স্থানে আপাতত আছে নিউজিল্যান্ড। তবে ঘাড়ের উপর নিঃশাস ফেলছে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ী পাকিস্তান। সম্ভাবনা আছে এবারের টুর্নামেন্টে চমক দেখিয়ে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান , শ্রীলংকাকে হারানো আফগানিস্তানের। ৭ম রাউন্ডের অবশিষ্ট প্রতিটি ম্যাচ , ৮ম এবং ৯ম রাউন্ডের ম্যাচগুলো নির্ধারন করবে কোন দল হবে সেমী ফাইনালে খেলা চতুর্থ দল।
এবারের টুর্নামেন্টের সব চেয়ে বড় বিস্ময় শিরোপাধারী ইংল্যান্ড ৬ ম্যাচের ৫ টি হেরে তলানিতে অবস্থান। ভালো ওডিআই দল বাংলাদেশ একই ভাবে ৬ ম্যাচের ৫ টিতে হেরে অবস্থান করছে ৯ম স্থানে। ইংল্যান্ড এবং বাংলাদেশ ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার সুযোগ পাবে না সেটি অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে।
এবারের টুর্নামেন্টে বেশ কিছু বিস্ময় ঘটেছে। আইসিসি সহযোগী সদস্য দেশ নেদারল্যান্ডস ভালো খেলে হারিয়ে দিয়েছে টুর্নামেন্টে উড়তে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকাকে। আগেই বলেছি নিজ দেখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা থেকে বঞ্চিত আফগানিস্তান হারিয়েছে বর্তমান শিরোপা ধরি ইংল্যান্ড, ১৯৯২ চ্যাম্পিয়ন্স পাকিস্তান এবং ১৯৯৬ চ্যাম্পিয়ন্স শ্রীলংকাকে। অধিহয়তো কাংশ উইকেট ফ্লাট ব্যাটিং বান্ধব। ৩৫০ প্লাস রান হয়েছে অনেক। সেই রান তাড়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া -নিউ জিল্যান্ড ম্যাচটিতে এবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহীত ৩৮৮ রান তাড়া করে ৩৮৩ করেছে নিউ জিল্যান্ড। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর হেরেছে নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তান দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচেও সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হয়েছে।
জানিনা কেন হাতে গোনা কিছু ম্যাচ ছাড়া অধিকাংশ ম্যাচে দর্শক সমাগম কম হয়েছে। কিছু মাঠের সার্বিক ব্যাবস্থাপনা , অংশপ্রদানকারী দেশগুলোর দর্শকদের ভিসা প্রদানে জটিলতার অভিযোগ পাওয়া গাছে।
পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভারত। ব্যাটিং বোলিং সর্বক্ষেত্রেই ম্যাচ জয়ী একাধিক খেলোয়াড় নিয়মিত পারফর্ম করছে। সম্ভাবনা আছে ভারত ফাইনালে উঠে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নিবে। ওপর সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ধরে নেয়া যায়. ওদের টপ অর্ডার এবং মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা আছে মারকুটে ছন্দে। বোলিং যথেষ্ট কার্যকরী। একমাত্র নেদারল্যান্ডসের কাছে পা ফসকে হেরেছে ওরা। যদি সেমী ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার কাছে চিরায়ত চোক না করে তাহলে ফাইনাল খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ক্ষেত্রে সুযোগ থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম বারের মত বিশ্বকাপ জয়ের। জানিনা পাকিস্তান তাদের চিরো অনিশ্চিত রূপ নিয়ে শেষ মুহূর্তে নাটকীয় ভাবে সেমী ফাইনালে উঠবে কিনা। সেক্ষেত্রে সেমী ফাইনালে আবারো ভারত পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধের সম্ভাবনা আছে. সেটি হলে আইসিসির স্বপ্ন সাধ পূরণ হবে.
দেখার অধীর অপেক্ষায় বিশ্বজোড়া ক্রিকেট প্রেমিকরা।