
সালেক সুফী
সিনিয়র ক্রীড়া বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানী পরামর্শক
রামায়নের রাম লক্ষণ লঙ্কা জয় করে সীতাকে রাবনের হাত থেকে উদ্ধার করেছিল। ক্রিকেটে ইদানিং ভারত ঝড়ে উপর্যুপুরি লন্ডভন্ড হচ্ছে শ্রীলংকা। এশিয়া কাপ ফাইনালে ৫০ রানে অল আউট হবার পর কাল মুম্বাই ওয়াংখেদে স্টেডিয়ামে ভারতের ৩৫৭/৮ উইকেট গগন ছোয়া স্কোরের জবাব প্রয়াসে ৫৫ রানে গুটিয়ে ৩০২ রানের বিশাল পরাজয়ে বিপর্যস্ত হলো শ্রীলংকা। তীব্ৰ গরম আর অসহনীয় আদ্রতা সত্ত্বেও ব্যাটিং সহায়ক উইকেট এবং অপেক্ষাকৃত ছোট মাঠে কেন শ্রীলংকা অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস টস জয় করে আগে ব্যাটিং করে নি সেটি বোধগম্য হয় নি. সাত ম্যাচ খেলে ৫ পরাজয়ে শ্রীলংকার বিশ্বকাপ মিশন শেষ বলা যায়। অন্যদিকে শক্তিশালী মারকুটে ব্যাটিং এবং তুখোড় বোলিং নিয়ে সাত ম্যাচে শতভাগ জয়ী স্বাগতিক ভারত তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পথে দৃঢ় পায়ে এগিয়ে চলেছে।
কালকের দিনের ম্যাচটিকে ইউনিসেফ এবং আইসিসি যৌথ ভাবে অবহেলিত শিশু এবং নারীদের সামাজিক পর্যায়ে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার বিশ্ব অঙ্গীকার পুনরায় ব্যাক্ত করার উপলক্ষ করেছিল। ৪০ হাজার উৎফুল্ল দর্শকের সরব উপস্থিতিতে গোটা চত্বর ছিল নীলিমায় নীল. ছিল ইউনিসেফ প্রতিনিধি হয়ে দুই ক্রিকেট জীবন্ত কিংবদন্তি সচিন রমেশ টেন্ডুলকার এবং মুত্তিয়াহ মুরালিধরন। মুম্বাইতে ভারতের খেলা। তাই দর্শক সারী অলংকৃত করেছিল বলিউড তারকারাজি।
কাল সুযোগ ছিল এযুগের ব্রাডম্যান বিরাট কোহলি ৪৯ম ওডিআই সেঞ্চুরি করে ভারত ঈশ্বর শচীনের মাঠে তাঁর উপস্থিতিতে রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলার। সাবলীল ৮৮ রানের ইনিংস খেলে পারেনি সেই স্বপ্ন মঞ্জিলে পৌঁছাতে কোহলি। ক্রমবিকশিত হতে থাকা সুদর্শন ( টেন্ডুলকার জায়া সারার প্রেমিক) সুবমান গিল ( ৯২) পারে নি আরো একটি শত রান অর্জন করতে। তবে ওদের যোগাযোগে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে জ্বলজ্বলে ১৮৯ রান ভারতের ভিত গড়ে দিয়েছিলো রানের আকাশ ছোয়া সীমানায় পৌঁছানোর। ভারত নব প্রজন্মের উদীয়মান ব্যাটসম্যান স্রেস আয়ার এর পর উপহার দিলো ৫৬ বলে ৮২ রানের বাহারি স্টোকস সমৃদ্ধ ইনিংস। শেষ দিকে ২৪ বলে ৩৫ খুনে ইনিংস খেলে রবীন্দ্র জাদেজা। ভুল সিদ্দান্ত এবং দুর্বল ফিল্ডিংয়ের কারণে গরমে হাস ফাস করা লংকানরা পরিশ্রান্ত হয়ে পরে।
জবাবে ব্যাটিং করতে এসে ভারতের উঁচু মানের আগ্রাসী পেস বোলিং মোকাবেলায় ভড়কে যায় লংকানরা। যেন আগাম সতর্ককরণ ছাড়াই ৯ রিক্টার স্কেলের ভূমিকম্প। লন্ড ভন্ড হয়ে যায় লংকান প্রতিরোধ। সূচনায় সিরাজ (৩/১৬) এবং বুমরাহ (১/৮) এবং শেষদিকে মোহাম্মদ সামি (৫/১৮) লংকানদের আরব সাগরে ভাসিয়ে দেয়। মাত্র ১৯.৪ ওভার খেলে ৫৫ রানে সাঙ্গ হয় লংকান ইনিংস। পরাজয় বিশাল ৩০২ রানের।