শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

“শুরু হোক নতুন করে পথচলা”
“শুরু হোক নতুন করে পথচলা”

“শুরু হোক নতুন করে পথচলা”

সালেক সুফী,সিনিয়র ক্রীড়া বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানী পরামর্শক

গতকাল ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনেতে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৮ উইকেটে পরাজয়ের মাদ্ধমে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ২০২৩ মিশন শেষ হয়েছে। ৯ ম্যাচের ৭ টিতে পরাজয়ের মাদ্ধমে অনেকটা হতাশা জনক ভাবেই শেষ হলো বাংলাদেশের ক্রিকেট মিশন। বাংলাদেশের এবারের বিশ্বকাপ মিশন ঘিরে কোটি কোটি ক্রিকেট প্রেমিকদের অনেক স্বপ্ন প্রত্যাশা ছিল। বেশ কিছু দিন থেকেই সাদা বলের ওডিআই ক্রিকেটে ভালো খেলতে থাকা বাংলাদেশ নিয়ে উঁচু আশা থাকার সঙ্গত কারণ ছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশ দলে ছিল বিশ্বমানের কয়েক জন তুখোড় খেলোয়াড় এবং সঙ্গে বেশ কয়েকজন উঁচু মানের উদীয়মান ক্রিকেটার। সোনালী প্রজন্মের মুশফিক ,মাহমুদুল্লাহ ,তামিম ,সাকিবের জন্য এবার ছিল শেষ বিশ্বকাপ। আর বিশ্বকাপ যেহেতু প্রতিবেশী দেশ ভারতে তাই সাফল্য নিয়ে আশাবাদী হতে ভুল ছিল না. কিন্তু বিশ্ব কাপ প্রমান করলো স্বপ্ন আর বাস্তবতার বিস্তর ব্যাবধান প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশের ব্যার্থ অভিযানে।

প্রথম খেলায় আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রত্যাশিত দাপুটে জয়ের পর ক্রমান্বয়ে ছয়টি খেলায় বিপুল ব্যাবধানে হেরে পয়েন্টস তালিকার করে প্রায় তলানীতে অবস্থান হয়েছিল। সৌভাগ্য বাংলাদেশের ৮ম ম্যাচে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে জয় বাংলাদেশের শেষ রক্ষা হয়. শেষ ম্যাচে কাল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাটিং পজিশন টুর্নামেন্টে প্রথম বারের মত ৩০৬ রান করে ভালো সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সহজ উইকেটে তুখোড় অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের রুখে দেয়ার সামর্থ ছিল না. মিচেল মার্শ (১৭৭*) এবং স্টিভ স্মিথের (৬৩*) খুনে ব্যাটিং বাংলাদেশকে প্লাবিত করে ৮ উইকেটে পরাজিত করে. হতাশ ,বিপর্যস্ত হয়ে শেষ হয় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন। তবু স্বস্তি, ৮ম স্থানে শেষ করে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস খেলতে পারবে বাংলাদেশ।
কেন এমন হলো ,কেন এমন হয় ? বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও কেন বাংলাদেশ বার্থ হলো ? নানা জনে নানা কথা বলছেন। বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেই মোটা দাগে ব্যার্থতার কারণগুলো লিখছি।

প্রথম কারণ হলো বিশ্বকাপের কিছু দিন আগে ইতিপূর্বে দায়িত্ব হীনের মত বাংলাদেশকে বিপদে ফেলে যাওয়া বিতর্কিত হাতুরাসিংহ কে হেড কোচ হিসাবে দায়িত্ত্ব প্রদান। হাতুরা এসেই পঞ্চ পাণ্ডবের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিক ,মাহমুদুল্লাহ এবং তামিমকে দল থেকে ছেটে ফেলার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করে। নানা ধরণের ষড়যন্ত্রের জাল বুনে অধিনায়ক তামিমের জন্য অস্বস্তিকর তোলা হয় দলে অবস্থান। মাহমুদুল্লাহকে বিশ্রামের নামে ছেঁটে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়। এমনকি দলের ব্যাটিং প্রাণভ্রমরা মুশফিককে চির অভ্যস্ত ৪ নম্বর ব্যাটিং পজিশন থেকে নিচে নামিয়ে ৬ নম্বরে খেলানো হয়। অন্নান্য সব দলছিনিমিনি বিশ্বকাপের ১ বছর আগে থেকে স্কোয়াড নির্বাচন মোটামুটি স্থীর করে ফেললেও বাংলাদেশ সবার শেষে নানা বিতর্কের পর বিতর্কিত স্কোয়াড ঘোষণা করে। দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালকে অনেকটা বাধ্য করা হয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোয়। সম্পূর্ণ ভুল পরিকল্পনায় ৫ জন পেসার ,দুইজন সাধারণ মানের স্পিনার ,দুই জন আনকোরা নবীন ব্যাটসম্যান এবং দুইজন অল রাউন্ডার নিয়ে নতুন অধিনায়কের অধীনে দল ঘোষণা করা হয়। দলে কোনো বিকল্প ব্যাটসম্যান না রাখা ছিল বিরাট ভুল। অদূরদর্শী এই ভুল পরিকল্পনার জন্য আমি হেড কোচ হাতুরার পাশাপাশি ,নির্বাচক মন্ডলী এবং বিসিবি প্ৰধানকে দায়ী করবো।
স্কোয়াড নির্বাচন ভুল হওয়ায় , প্রতিপক্ষ বা উইকেট গুলো বিষয়ে আগাম ধারণা না থাকায় বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচে ভরাডুবি ঘটে.

এরপর আসুন প্রতিমাচে একাদশ নির্বাচন ,ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে ছিনি মিনি খেলা। শান্ত ৩ নম্বর পজিশনে স্থিতু হলেও ওকে নিয়মিত সেখানে না খেলানোয় খেয়েই হারিয়ে ফেলে শান্ত। তরুণ তৌহিদ হৃদয়ের প্রিয় পসিশনে না খেলিয়ে নানা পসিশনে খেলানো হয়. মেধাবী মেহেদী মিরাজকে ১ থেকে ৮ সব পসিশনে খেলানো হয়. সবচেয়ে বিস্ময় জাগানো হয় দলের সেরা ব্যাটসম্যান প্রমাণিত মাহদুল্লাহ রিয়াদকে ৭ এমনকি ৮ নম্বর পজিশনে খেলানো। সুক্ষ দৃষ্টিতে দেখলে এগুলো কোনো সুবিধাবাদী মহলের স্পট ফিক্সিং সন্দেহ করার কারণ রয়েছে। বার্থ হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং। শেষ ম্যাচ করা কোনো ম্যাচেই বাংলাদেশ প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাটিং করতে পারেনি।
অধিনায়ক হিসাবে সাকিব সামনে থেকে নেতৃত্ত্ব দিতে পারে নি। আচরণে এবং নানা বক্তব্যে সাকিব দলকে হতাশ এবং বিব্রত করে। সেনাদলকে যুদ্ধে রেখেই টুর্নামেন্ট শেষ হবার আগেই টুর্নামেন্টের মাঝে এবং শেষ ম্যাচের আগে দেশে ফিরে অধিনায়ক। টিম ম্যানেজমেন্ট অধিনায়ককে দায়বদ্ধ করতে সম্পূর্ণ বার্থ হয়.
বিশ্ব কাপে বাংলাদেশের শোচনীয় পারফরম্যান্স ক্রিকেটের বিশাল ক্ষতি করেছে, ক্রিকেট এবং বাংলাদেশের বৃহত্তত্ৰ স্বার্থে অবিলম্বে হেড কোচ ,অধিকাংশ কোচিং স্টাফ, নির্বাচক মন্ডলীদের অপসারণ এবং সভাপতি সহ পরিচালক স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানো প্রয়োজন। বিন্দুমাত্র লজ্জা থাকলে বিসিবির শীর্ষস্থানীয় ব্যাক্তিবৃন্দ নিজে থেকেই সরে দাঁড়ানো উচিত। যা কিছু ঘটেছে সেটি থেকে এটিও অনুমান করা ভুল হবে না একটি অশুভ মহল ইচ্ছাকৃতভাবে আত্মহনন করিয়েছে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে। স্কোয়াড কোনভাবেই বিশ্ব কাপের মত বৈষয়িক আসরে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত ছিল না.
পরামর্শ দিব যথাযথ উপায়ে আইসিসির সঙ্গে পরামর্শ করে বিসিবির খোল নলচে পাল্টে ফেলার।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।